শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু একটি ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং অন্যায়-অবিচারের

2026-07-16T10:41:30+00:00
2026-07-16T13:48:44+00:00
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী
শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না
ভোরের ডাক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪১ এএম  আপডেট: ১৬.০৭.২০২৬ ১:৪৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু একটি ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে জাতির ভয় জয়ের প্রতীক। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। তাদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বাণীতে তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দেশের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না, বরং তা ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন শহীদ হন।

তিনি বলেন, রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। তার বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

১৬ জুলাইয়ের শহীদদের মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।’

তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সেই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর বর্তমান সরকার শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

শহীদদের রক্ত কখনও বৃথা যেতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরেই দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি।’

বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর কাছে সব শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


  বিষয়:   জুলাই শহীদ দিবস  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান 


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: