বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আগামী ৫০ বছরের সহযোগিতার ভিত্তিও এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের স্বাধীন উন্নয়নের পথকে সম্মান করে এবং সবসময় বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকতে চায়। সফরের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ (কমিউনিটি উইথ আ শেয়ার্ড ফিউচার) পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ থেকে তাজা কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের আম চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষিপণ্য চীনে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় একমত হয়েছে। পাশাপাশি চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সহজ করবে।
তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রমে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, এ সংকট সমাধানে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে চীন কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে যেসব সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অন্যরা।