প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক লেনদেন আরও সহজ করতে আগামী আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’। ডুয়েল কারেন্সি সুবিধাসংবলিত এই কার্ডের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে বিমানবন্দর, চিকিৎসাসেবাসহ অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড চালু-সংক্রান্ত এক বিশেষ বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের পর এবার বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে প্রবাসী কার্ড কর্মসূচি।
বৈঠকে জানানো হয়, আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ডের উদ্বোধন করা হবে। প্রথম ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড বিতরণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়া। দ্বিতীয় ধাপে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।
প্রবাসী কার্ডে যে ১০টি সুবিধা মিলবে
১. দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা।
২. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা।
৩. বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।
৪. দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা।
৫. সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়।
৬. কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার সুবিধা।
৭. প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।
৮. জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার।
৯. রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজ অর্থ লেনদেন ও সরাসরি অর্থ প্রেরণের সুযোগ।
১০. জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিং এবং অন্যান্য সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসীকে পর্যায়ক্রমে এই কার্ডের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করারও নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।