মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় এবার কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশটির তেল খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় ইরানের বাহিনী একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনার বরাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে স্থাপনাটি খালি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কুয়েতের দমকল বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পর সকালে দুটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হন। পরে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে। দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জনগণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ এগুলোর অনেকটাই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের অংশ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে যেতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার রাতের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের হামলা চালিয়ে গেলে ইরান শুধু পাল্টা হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।