টানা বৃষ্টিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজধানী

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দোকানপাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন

2026-07-13T12:51:07+00:00
2026-07-13T14:50:12+00:00
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
রাজধানী
টানা বৃষ্টিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম  আপডেট: ১৩.০৭.২০২৬ ২:৫০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দোকানপাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও সরবরাহেও দেখা দিয়েছে বিঘ্ন। ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার (১২ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস হলেও জলাবদ্ধতার কারণে অনেকটা বন্ধ ছিল বেশিরভাগ দোকানপাট ও ব্যাণিজ্যকেন্দ্র। 

অন্যদিকে ফুটপাত থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজার ও কাঁচাবাজারের দোকানপাট আংশিক খোলা থাকলেও সেখানে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল অনেকটা শূন্য। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম।

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে রাজধানীর জলাবদ্ধতা ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। প্রতি অর্থবছর শত শত কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার হয়ে থাকে। কিন্তু জলাবদ্ধতা কাটে না। বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং নগর পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু করে পরের দিন রবিবার দুপর পর্যন্ত থেমে থেমে টানা বৃষ্টিপাত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে নিউমার্কেট ও আশপাশের বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোর রাস্তায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। 

রবিবার মার্কেটটির ভেতর হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। 

এ ছাড়াও গাউছিয়া, নূরজাহান ও চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের পরিস্থিতি একই রকম। ফলে নিউমার্কেট ও আশপাশের মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। 

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) যেকোনো ধরনের শটসার্কিট বা দুর্ঘটনা এড়াতে পুরো নিউমার্কেট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। 

জলাবদ্ধতায় মার্কেটের নিচতলার দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় কাপড়ের দোকান, জুতা ও হালকা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ভিজে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক দোকানি চেষ্টা করেও মালামাল রক্ষা করতে পারেননি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হচ্ছে। যা আরও এক দুই দিন একই অবস্থা বিরাজ করতে পারে।

অন্যান্য অতি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নিত্যপণ্য ও কাঁচাবাজারের স্থবিরতা নেমে আসে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, কৃষি মার্কেট, মিরপুর, তেজগাঁও ও কাওরানবাজার এলাকার কাঁচাবাজার ও দোকানপাট আংশিক খোলা থাকলেও সেখানে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল শূন্যের কোঠায়। জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হক জানান, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নিউমার্কেট এলাকা বন্ধ রয়েছে। কাঁচাবাজারের ভেতরে পানি ঢুকেছে। ক্রেতার উপস্থিতি একেবারেই কম। ফলে বিক্রি না থাকায় কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বৃষ্টির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ড্রেনগুলো পলিথিন ও বর্জ্যে আটকে থাকায় পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ফলে রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকানগুলোর মালামাল পানিতে ভেসে গেছে, অথবা ভিজে গেছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্ষা এলে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। এতে ঠিকাদারের লাভ বেশি। ক্ষতি জনগণের। প্রতিবছর এমনটি হচ্ছে। একদিনের বৃষ্টির জলাবদ্ধতায় শত শত ব্যবসায়ী পথের ফকির হয়ে যাচ্ছেন। সরকার আসে সরকার যায়, সবাই সমাধানের কথা বলে কিন্তু সেটি আর হয় না। 

বিষয়টি সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য দপ্তরকে আমরা বহুবার বলেছি কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট, ট্যাক্স দেবেন কিন্তু সেবা পাবেন না, এমনটা হওয়া ঠিক নয়।



Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: