মেসিকে বিশ্বকাপ জেতাতে স্কালোনির বিশেষ পরিকল্পনা

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও লিওনেল মেসির দিকে তাকিয়ে আর্জেন্টিনা। তবে এবার শুধু তারকা ফুটবলারের নৈপুণ্য নয়, কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলগত পরিকল্পনাও

2026-07-11T22:07:44+00:00
2026-07-11T22:07:44+00:00
  শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
খেলা
মেসিকে বিশ্বকাপ জেতাতে স্কালোনির বিশেষ পরিকল্পনা
ক্রীড়া ডেস্ক
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও লিওনেল মেসির দিকে তাকিয়ে আর্জেন্টিনা। তবে এবার শুধু তারকা ফুটবলারের নৈপুণ্য নয়, কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলগত পরিকল্পনাও আলোচনার কেন্দ্রে। প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প একাদশ, ফর্মেশন পরিবর্তন এবং বেঞ্চের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে 'প্ল্যান বি' প্রস্তুত রেখেছেন তিনি। নকআউট পর্বে কঠিন লড়াইয়ে এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়, আর সেটিই শেষ পর্যন্ত মেসির বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণে কতটা ভূমিকা রাখে—সেদিকেই এখন নজর ফুটবল বিশ্বের।

তবে আর্জেন্টিনা জিতছে কিন্তু মন ভরাতে পারছে না। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে এসে তারা প্রতিটা ম্যাচে জিতেছে ঠিকই কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ঘাম ছুটে যাচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের। মিডফিল্ডে একঝাঁক টেকনিক্যাল জাদুকর নিয়েও কেন খাবি খাচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা? প্রতিপক্ষ দলগুলো কিভাবে ডিকোড করছে স্কালোনির মাস্টারপ্ল্যান, আর শেষ মুহূর্তে কোন জাদুতে রক্ষা পাচ্ছেন মেসিরা।

সেন্ট্রাল ওভারলোড স্কালোনির শক্তির জায়গা যখন ফাঁদ, সাধারণত আধুনিক ফুটবলে যেকোন রক্ষণ ভাগ বা ডিফেন্সিভ ব্লক ভাঙ্গার একটা চেনা উপায় আছে উইঙ্গারদের দিয়ে মাঠের চওড়া বা উইডথ ব্যবহার করা। এতে প্রতিপক্ষের ফুলব্যাকরা দুই পাশে সরে যেতে বাধ্য হয় এবং ডিফেন্সে ফাঁকা জায়গা বা স্পেস তৈরি হয়। কিন্তু আর্জেন্টিনা খেলে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তারা মাঠ ছড়াতে চায় না, বরং তারা প্রতিপক্ষকে মাঝ মাঠ দিয়ে গুড়িয়ে দিতে চায়।

মিশর বা কাবো ভার্দে বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশটা খেয়াল করুন। মাঝ মাঠে আলেক্সিস ম্যাকালিস্টার, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, সামনে লিওনেল মেসি আর হুলিয়ান আলভারেজ। এরা প্রত্যেকেই মূলত সেন্ট্রাল প্লেয়ার, যারা মাঠের মাঝখান দিয়ে খেলতে পছন্দ করেন। স্কালোনির মূল কৌশল হলো সেন্ট্রাল ওভারলোড। বল যে চ্যানেলে বা পাশে থাকে ঠিক সেই জায়গায় চার পাঁচ জন খেলোয়াড় পজিশন নেন। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ যখন নিচ থেকে বল বাড়াচ্ছেন তখন ওয়ান টাচ পাসের একটা ছোট জাল তৈরি করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই দ্রুত গতিতে নিখুত পাসের কম্বিনেশনে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ লাইন চিড়ে ভেতরে ঢুকে যাওয়া। একে বলে থার্ড ম্যান কম্বিনেশন। গত কয়েক বছর ধরে এটাই আর্জেন্টিনার সফলতার মূল ভিত্তি।

কিন্তু সমস্যা হলো প্রতিপক্ষ দলগুলো এখন এই কৌশলটা ধরে ফেলেছে। মিশর আর্জেন্টিনাকে কাউন্টার করার জন্য নিখুত একটা ছক কষেছিল। তারা খুব চতুর একটা কাজ করে। তারা আর্জেন্টিনাকে উইড বা দুই প্রান্ত ব্যবহার করতে বাধ্য করার জন্য মাঝ মাঠের স্পেস পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। মিশর মাঠে সেট করে একটা অত্যন্ত কমপ্যাক্ট এবং ডিপ ফোর ফোর টু ব্লক। 

তারা জানতো আর্জেন্টিনা মাঝখান দিয়ে ঢুকতে চাইবে, তাই তারা মাঝ মাঠে ফুটবলারদের জটলা তৈরি করে সব স্পেস বন্ধ করে দেয়। ফলে আর্জেন্টিনার সেই ওয়ান টাচ ফ্লুইড পাসিং এর আর জায়গা ছিল না। এখন প্রশ্ন আসতে পারে আর্জেন্টিনা তখন উইং দিয়ে আক্রমণ কেন করলো না? সেখানেই মিশরের আসল চাল ছিল।

আর্জেন্টিনার দুই ফুলব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকো এবং নাহুয়েল মলিনা যখন ওভারল্যাপ করে উপরে উঠছিলেন মিশর তাদের আটকানোর জন্য বাড়তি তাড়াহুড়ো করেনি। কারণ তালিয়াফিকো বা মলিনা কেউই প্রথাগত উইঙ্গার নন যারা ওয়ান অন ওয়ান রিবলিং এ ডিফেন্ডারকে ছিটকে দেবেন। মিশর আনন্দের সাথেই তাদের দুই প্রান্তে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রেখেছিল। বল উইং এ গেলে মিশরের পুরো ব্লকটা সেদিকে শিফট করতো। 

এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল আর্জেন্টিনার আরেকটা বড় খামতি, রানার ইন বিহাইন্ড ডিফেন্সের পেছনে দৌড়ে বল ধরার মত খেলোয়াড়ের অভাব। ফলে মিশর খুব আরামে ডিপ ডিফেন্স করেছে এবং কাউন্টার অটাকে আর্জেন্টিনার উপর চড়াও হয়েছে। কাবো ভার্দে বা মিশর ছোট দলগুলো এভাবেই আর্জেন্টিনাকে চরম বিপদে ফেলে দিয়েছিল।

প্ল্যান বি স্কালোনির মাস্টার স্ট্রোক। আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতেছে, কিন্তু কিভাবে? প্রথমার্ধে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তখন দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি এমন কিছু পরিবর্তন করলেন যা এই দলের চেনাছকের বাইরে, আর সেটাই বদলে দিল ম্যাচের ভাগ্য। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে স্কালোনি মাঠে নামিয়েছিলেন নিকোলাস গঞ্জালেজকে, আর এই একটা পরিবর্তনী ট্যাকটিক্যাল দৃশ্যপট বদলে দিল। গঞ্জালেজ মাঠে এসেই একদম টাচ লাইনের কাছাকাছি উইডথ হোল্ড করা শুরু করেন। 

তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি গতি দিয়ে ফুলব্যাককে পরাস্ত করতে পারেন, আবার ডিফেন্সের পেছন থেকে বক্সে রানও নিতে পারেন। একই সঙ্গে মাঠে এলেন লাওতারো মার্তিনেজ, আর সবচেয়ে বড় জুয়াটা খেললেন মেসি স্বয়ং। মেসি সেন্টার থেকে সরে গিয়ে একদম ডান প্রান্তের উইং এ জায়গা নিলেন। হঠাৎ করে দৃশ্যপট বদলে গেল। মিশরের যে ব্যাকলাইন চারজন মিলে মাঝখানটা দখল রেখেছিল তারা এবার মেসি এবং গঞ্জালেজকে আটকানোর জন্য দুই পাশে ছড়াতে বাধ্য হল। ততক্ষণে মিশর দুই শূন্য গোলে এগিয়ে থাকায় ডিফেন্সিভ মানসিকতায় চলে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আর্জেন্টিনার এই নতুন ফরোয়ার্ড প্রোফাইল তাদের এলোমেলো করে দেয়।

টুর্নামেন্ট ফুটবলের নির্মম বাস্তবতা, আর্জেন্টিনা হয়তো তাদের চিরচেনা শৈল্পিক ফুটবল সবসময় খেলতে পারছে না। দলগুলো তাদের মূল শক্তিকে বোতল বন্দী করে ফেলছে। কিন্তু টুর্নামেন্ট ফুটবলে দিন শেষে জয়টাই শেষ কথা। সুন্দর খেলে হেরে যাওয়ার চেয়ে কুৎসিত খেলে ম্যাচ বের করে নেয়াটাই বড় আর্ট। স্কালোনি প্রমাণ করেছেন তিনি কেবল এক কৌশলে আটকে থাকা কোচ নন। দলের শক্তির বাইরে গিয়েও কিভাবে তাৎক্ষণিক সমাধান বা ট্যাক্টিক্যাল ফিক্স বের করতে হয় স্কালোনি সেটা জানেন। মেসিকে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করার ক্রেডিট অবশ্যই স্কালোনির প্রাপ্য। 

আর্জেন্টিনা ভুগছে কিন্তু তারা এখনো টিকে আছে, আর চ্যাম্পিয়নদের লক্ষণ তো এটাই। ফর্ম যেমনই হোক তারা জেতার রাস্তা খুঁজে নেয়।


  বিষয়:   বিশ্বকাপ  আর্জেন্টিনা  লিওনেল স্কালোনি  মেসি 


Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: