৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স যেন ফুটবল বিশ্বের এক বিস্ময়। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা যেভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন, তাতে অনেকেই তার বয়স ভুলে তাকে তরুণ ফুটবলারের মতোই দেখছেন। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও মেসির ফিটনেস, গতি ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তাকে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা মেসি মাঠের বাইরের সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও পেশাদার মনোভাবের কারণেই বয়সকে হার মানিয়ে চলেছেন।
অনেকের ধারণা ছিল, ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসির ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় শুরু হবে। তবে বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। মেজর লিগ সকারের কঠিন সূচি, দীর্ঘ ভ্রমণ, কৃত্রিম টার্ফে খেলা এবং ভিন্ন আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও মেসি নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন। মায়ামির সতীর্থ সের্হিও রেগুইলোনও স্বীকার করেছেন, মেসির পারফরম্যান্স প্রমাণ করে এমএলএস কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ।
মেসির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। পরিবার, মার্কেটিং দল এবং বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় তিনি মাঠের বাইরের চাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেন। ইন্টার মায়ামির সহযোগিতায় প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি, ফিজিওথেরাপির সঠিক ব্যবহার এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন তাকে বিশ্বকাপের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তুত হতে সহায়তা করেছে।
তার শারীরিক সক্ষমতার অন্যতম উদাহরণ তার দৌড়ের গতি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মেসির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ কিলোমিটার। অথচ এবারের বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও তিনি ঘণ্টায় ৩০.৯ কিলোমিটার গতি তুলেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় এই পারফরম্যান্স তার অসাধারণ শারীরিক সক্ষমতারই প্রমাণ।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির মতে, মেসি নিজের সামর্থ্যকে সঠিকভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। সুযোগ পেলেই তিনি মাঠে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এবং দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দেন।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় প্রশ্ন—মেসিকে কি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও দেখা যাবে? ৪৩ বছর বয়সে সপ্তম বিশ্বকাপে খেলা কঠিন মনে হলেও, মেসির বর্তমান ফর্ম, মানসিক দৃঢ়তা ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা সেই সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না। যতদিন তিনি মাঠে থাকবেন, ততদিন তার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে মুখিয়ে থাকবে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত।
সূত্র: মার্কা