মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিজ বাড়ির উঠান থেকে ৮ ফুট মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া জায়েদা বেগমের (৩৮) মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহ আনা হয়। জানাজা শেষে উপজেলার সোনাটিকী এলাকায় বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনের সময় স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় জায়েদা-আলমগীর দম্পতির ছয় বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আল-আমিন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে মায়ের হত্যাকারী বাবার ফাঁসির দাবি জানায়।
গত ৭ জুলাই রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় আলমগীর আলীর বাড়ির উঠান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে ৮ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুন থেকে জায়েদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। তাকে খুঁজতে গেলে স্বামী আলমগীর আলী প্রতিবেশী ও স্বজনদের জানান, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। পরে জায়েদার বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির তদন্তে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ আলমগীর আলী, জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।