অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং ম্যাচ ফিক্সিং প্রতিরোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস

2026-06-30T21:25:16+00:00
2026-06-30T21:25:16+00:00
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা
ভোরের ডাক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:২৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং ম্যাচ ফিক্সিং প্রতিরোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আইনে জুয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়।

বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, এম. আব্দুল গফুর, জহিরুল ইসলাম, আমির হামজা, কামরুল হাসান, আখতার হোসেন এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিলটি অধিকতর পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো এবং জনমত গ্রহণের প্রস্তাব দেন। তবে কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।

বিলটি উত্থাপনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার রোধে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে জুয়া শুধু প্রচলিত আসরে সীমাবদ্ধ নেই; স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তা ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া নিয়ন্ত্রণে আর কার্যকর নয়। তাই যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনে ডিজিটাল জুয়া প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, ওয়েজারিং, ডিজিটাল সম্পদ ও ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, পেশাদার বুকমেকার, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন নতুন ধারণার আইনগত সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে।

সরকারের মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে জুয়ার ধরন বদলে গেছে, যা জনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, মানসিক স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাইবার অপরাধ তদন্তকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশভিত্তিক ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত অনলাইন বেটিং চক্রের বিস্তার নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অবৈধ বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে জুয়াসংক্রান্ত লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত অতিক্রম করে পরিচালিত অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। তাই নতুন আইনে শুধু জুয়া খেলাই নয়, অবৈধ জুয়ার আয়োজন, পরিচালনা, সহায়তা, প্রচার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বেটিং বাজার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও জনআস্থার জন্য বড় হুমকি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইন জুয়া এখন শুধু সামাজিক সমস্যা নয়; এটি সাইবার নিরাপত্তা ও আর্থিক অপরাধেরও বড় উদ্বেগের বিষয়। অনেক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে এবং অর্থপাচারের পথ তৈরি করতে পারে। তাই আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা, টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি অবৈধ জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ দেশের জুয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডিজিটাল জুয়ার ক্রমবর্ধমান বিস্তার মোকাবিলায় এটিকে সরকারের নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


  বিষয়:   অনলাইন বেটিং  জেল  আইন পাস  জরিমানা 


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: