
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শেষ হয়েছে। বাজেট অনুমোদন এবং দুটি বিল পাসের পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আগামী ৭ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
গত ৭ জুন শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট (দ্বিতীয়) অধিবেশনে বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা, সম্পূরক বাজেট, অর্থ বিলসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বাজেট ২০০৬-০৭ অর্থবছরে উপস্থাপন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান।
নতুন বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ। একই সঙ্গে বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন মোট ২৯১ জন সংসদ সদস্য। এ আলোচনা চলে ৪৫ ঘণ্টা ৫১ মিনিট। এর মধ্যে সরকারি দলের ২০০ জন সদস্য ৩২ ঘণ্টা ৩ মিনিট এবং বিরোধী দলের ৯১ জন সদস্য ১৩ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট বক্তব্য দেন।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় অংশ নেন ২৫ জন সংসদ সদস্য। এ আলোচনা চলে ৩ ঘণ্টা ৩ মিনিট। এর মধ্যে সরকারি দলের ১৮ জন সদস্য ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট এবং বিরোধী দলের ৭ জন সদস্য ৪৯ মিনিট বক্তব্য দেন।
সব মিলিয়ে বাজেটের সাধারণ আলোচনা ও সম্পূরক বাজেটের ওপর মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ দুই আলোচনায় সর্বমোট ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।