প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানসহ ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্থান পেয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে, এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার সময়। এ প্রেক্ষাপটে এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না হয়ে দক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা সংস্কৃতি জোরদার এবং উদ্ভাবনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ এখন সময়ের দাবি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উন্নয়নে আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বানও জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা, নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একটি বহুমাত্রিক ও আধুনিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।