চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার অবসান এখন নির্ভর করছে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ওপর। বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায় ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আপিল বিভাগ ঋণখেলাপির কারণে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয়। তবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে—সংক্ষিপ্ত রায়ে তা স্পষ্ট না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবেন, কমিশন সেভাবেই ব্যবস্থা নেবে। যদি নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ আসে, তাহলে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর যদি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে কমিশন সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন নির্বাচনের নির্দেশ এলে এটি উপনির্বাচন হিসেবে নয়, বরং নতুন তফসিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। তবে আসলাম চৌধুরীর অযোগ্যতা বহাল থাকলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পান। আদালতের নির্দেশে তার ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।
আপিল বিভাগের রায়ের ফলে আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন নির্বাচন হবে—সে বিষয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ই চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবে।
এদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে এর পরবর্তী আইনি পরিণতি সম্পর্কে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। নতুন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী অযোগ্য হলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করার বিধান রয়েছে। তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়ে শুরু থেকেই আইনি জটিলতা চলছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন ও হাইকোর্টে তার মনোনয়ন বৈধ থাকলেও আপিল বিভাগ শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা বাতিল করে রায় দেয়।