ভারতীয় ভিসা পেতে সেন্টারগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

সোহাগ রাসিফ

জাতীয়

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় দেশের ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারগুলোতে

2026-06-30T12:52:34+00:00
2026-06-30T13:38:53+00:00
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
ভারতীয় ভিসা পেতে সেন্টারগুলোতে উপচে পড়া ভিড়
সোহাগ রাসিফ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম  আপডেট: ৩০.০৬.২০২৬ ১:৩৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় দেশের ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারগুলোতে (আইভ্যাক) মানুষের ঢল নেমেছে। 

সোমবার (২৯ জুন) আবেদন জমা দেওয়ার প্রথমদিনেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে দেখা যায় হাজারো ভিসাপ্রত্যাশী মানুষের দীর্ঘ সারি। বহুল প্রতীক্ষার পর ভিসা চালুর এই খবরে পর্যটক, রোগীসহ ভারতের সেবাগ্রহীতাদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

সোমবার সরোজমিনে দেখা যায়, ভোর হওয়ার আগেই রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভ্যাক সেন্টারের সামনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছে অসংখ্য মানুষ। ভোরবেলায় আসা আবেদনকারীরা জানান, জানি প্রথমদিন অনেক বেশি ভীড় হবে, আমাদেরও ইমার্জেন্সি, তাই সকাল হওয়ার আগেই এশে সেন্টারের সামনে স্থান নিয়েছি। 

ভোলা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে আগত মেহেদী হাসান আরিফ নামের এক আবেদনকারী বলেছেন, বিগত দুই বছর ভারত যেতে না পেরে অনেক পরিকল্পনা আটকে ছিল। এখন পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরল। ‘দিল্লী না ঢাকা’ বলে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া ব্যাক্তিদের মুখে এবার কুলুপ আটল। নরসিংদী থেকে আসা সামিউল হক নামের এক তরুণ ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় যেতে চান। কিন্তুঢাকায় রোমানিয়ার দূতাবাস না থাকায় অপেক্ষা করেন দেড় বছর। সাক্ষাৎকারসহ দেশটির ভিসাসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করতে হয় ভারতের রোমানিয়ান দূতাবাসে গিয়ে। এ কাজেই ভারতে যেতে চান তিনি।

রাজশাহীর বর্ণালী মোড়ে মরিয়ম আলী টাওয়ারে অবস্থিত ভিসা সেন্টারেও সকাল থেকে আবেদনকারীরা আসছেন। রুপক নামের এক আবেদনকারী বলেন, আমার বাড়ি পঞ্চগড়ে ইন্ডিয়ার সাথেই, কিন্তু ভিসা বন্ধ থাকায় অনেকদিন যেতে পারিনি।

আইভ্যাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের চাপ সামলাতে তারা অতিরিক্ত জনবল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি বড় কেন্দ্রে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরেও এই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ওদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতার কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার সব ধরণের নিয়মিত ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে মেডিকেল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা প্রদান করা হলেও সাধারণ পর্যটকদের জন্য দরজা বন্ধ ছিল পুরো সময়।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।  দীনেশ ত্রিবেদী দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। গত এপ্রিলে ভারত সরকার তাকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের ৫৫ বছরের সম্পর্কের ইতিহাসে ভারত এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে দেশটির হাইকমিশনার করে বাংলাদেশে পাঠাল। তিনি ভারতের পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

ভিসা চালুর এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ কলকাতা ও দিল্লিতে আসেন। তাই পর্যটন ভিসা চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও রোগীদের দুর্ভোগ কমবে। এছাড়া বাংলাদেশের বাজারে পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্য ও যাতায়াত পুনরায় শুরু হওয়া জরুরি। এতে দুই পক্ষই লাভবান হবে। এতদিন বন্ধ থাকায় এখন বাংলাদেশও বুঝতে পেরেছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি তাদেরই হয়েছে।

ভিসা কার্যক্রম সহজ করতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভারতীয় হাইকমিশন এবার আবেদনের ক্ষেত্রে আধুনিক নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে আবেদনকারীকে ভিসার কাগজপত্র জমা দেওয়ার অন্তত একদিন আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে।

আবেদনকারীদের প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (indianvisabangladesh.nic.in/visa) সাইন-আপ করে ওয়েবফাইল আপলোড করতে হবে। সফলভাবে ফাইল আপলোড করার পর বিকাল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং শুরু হয়। এছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে বর্তমান পাসপোর্ট (৬ মাসের মেয়াদসহ), ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন, ইউটিলিটি বিলের কপি এবং পেশার প্রমাণপত্র জমা দিতে হচ্ছে। ভিসা প্রসেসিং ফি হিসেবে ১,৫০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়।

পাঁচ জেলায় ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রের  ঠিকানা:  ঢাকা থেকে আবেদন জমা দেওয়ার ঠিকানা: যমুনা ফিউচার পার্ক, জি-১ ফ্লোর, সাউথ কোর্ট, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা। ফোন: ০৯৬১২ ৩৩৩ ৬৬৬,০৯৬১৪ ৩৩৩ ৬৬৬। চট্টগ্রাম অঞ্চল: সিটি সেন্টার, দ্বিতীয় তলা, সিডিএ অ্যাভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম। ফোন: ০২-৩৩৪৪৫৩১০০।

রাজশাহী: মরিয়ম আলী টাওয়ার, প্রথম তলা, বর্ণালী মোড় (পুরোনো বিলশিমলা), রাজশাহী। ফোন: ০৭২১-৮১২৫৩৪, ০৭২১-৮১২৫৩৫। খুলনা: রাহাত সেন্টার, ৭১ (নতুন), সৈয়দ আলী হোসেন সড়ক (আউটার বাইপাস রোড), ছোট বয়রা, খুলনা। ফোন: +৮৮০ ২৪৭ ৮৮৪৫৫০০। সিলেট: রহিম টাওয়ার, সোবহানীঘাট, বিশ্বরোড, সিলেট। ফোন: ০৮২১-৭১৯২৭৩।

দুই দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন পুনরায় সুদৃঢ় করতে ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালুর এই সিদ্ধান্ত একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও ব্যাবসা আবারও স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পাবে বলে আশা করছেন রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ।


  বিষয়:   বাংলাদেশি নাগরিক  ভারত  ভিসা 


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: