প্রথমার্ধে জাপানের কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে সেলেসাওরা। ৫৬ মিনিটে ক্যাসিমিরোর সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল।
রেফারি ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেছিলেন। সেই ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটেই আসে নাটকীয় মুহূর্তটি। ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত পাস ধরে বক্সের ভেতর থেকে কোনাকুনি শট নেন মার্তিনেল্লি। পোস্টে লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে, আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল শিবির। অন্যদিকে চোখের জলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় জাপান।
এর আগে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। ৩ মিনিটে গিমারায়েসের শট, ৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সুযোগ, এরপর কুনহা ও পাকেতার একাধিক প্রচেষ্টা—সবই ব্যর্থ করে দেন জাপানি গোলরক্ষক সুজুকি কিংবা রক্ষণভাগ।
১০ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো বলে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল। অন্যদিকে শুরুতে রক্ষণাত্মক খেললেও ১৬ মিনিটে কামাদার ফ্রি-কিক থেকে আক্রমণের ইঙ্গিত দেয় জাপান।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে সবাইকে চমকে দিয়ে এগিয়ে যায় এশিয়ার প্রতিনিধিরা। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান সানো। কাসেমিরোকে পেছনে ফেলে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত ডান পায়ের শটটি পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে জালে জড়ায়। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল। সেই চাপের ফল আসে ৫৬ মিনিটে। জাপানের রক্ষণে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্যাসিমিরো সমতাসূচক গোল করেন। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পাননি।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে মার্তিনেল্লির গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় স্বস্তির জয়। নাটকীয় এই জয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় সেলেসাওরা, আর অসাধারণ লড়াই করেও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের।