বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। টেলিভিশন উপস্থাপক লুসিয়ানো হাকের একটি অনুষ্ঠানে দাদি নিলজাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে দাদির পাঠানো একটি ভিডিও বার্তা দেখার পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। তিনি বলেন, ‘আমার দাদি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত আমি তার সঙ্গেই থেকেছি। আমাদের বাড়ি খুব ছোট ছিল, তাই তার পাশেই ঘুমাতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি আমার জীবন গড়ে দিয়েছেন। যখনই সুযোগ পাই, তার পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করি। কারণ আমি জানি, একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে। আমি আমার দাদি ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিই। আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য তারা নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন।’
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই আবেগঘন মুহূর্তের পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান এবং ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ষষ্ঠ তারকাটি আসতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে।’
স্পেনের সংবাদমাধ্যম মার্কা তাদের প্রতিবেদনে ভিনিসিয়ুসের এই সাক্ষাৎকারকে নকআউট পর্বের আগে ব্রাজিল শিবিরের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, পরিবারের একজন সদস্যকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্রাজিলের ৭ নম্বর জার্সিধারী নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে দলের সম্ভাবনা নিয়ে তার আত্মবিশ্বাসও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক ওলে ভিনিসিয়ুসের কান্নার ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাদির ভিডিও বার্তা দেখেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচ তার পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে দেখছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদমাধ্যমটির মতে, ভিনিসিয়ুসের বর্তমান সাফল্যের পেছনে পরিবারের ত্যাগের যে গল্প রয়েছে, এই মুহূর্তটি তারই একটি আবেগময় প্রতিচ্ছবি।