বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ (২৯ জুন) পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী রোজ বোল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
নকআউট পর্বে হার মানেই বিদায়। তাই সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
পরিসংখ্যান, ফিফা র্যাঙ্কিং ও অতীতের রেকর্ড ব্রাজিলের পক্ষেই থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং সবশেষ দেখায় ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি ম্যাচটিকে আরও জমজমাট করে তুলেছে। বেশ কয়েকটি কারণে জাপান আজ ব্রাজিলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
১. মোরিয়াসুর কৌশলী ফুটবল ও ভয়ংকর কাউন্টার অ্যাটাক
জাপানের বর্তমান খেলার ধরণ গড়ে তুলেছেন প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। কম বল দখলে রেখেও দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আঘাত হানাই তার মূল কৌশল।
সর্বশেষ বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারানোর ম্যাচে জাপানের বল দখলের হার ছিল যথাক্রমে মাত্র ২৬ ও ১৮ শতাংশ। তবুও শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লক এবং দ্রুতগতির উইং আক্রমণে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় সামুরাই ব্লুজরা। বড় দলের বিপক্ষে এই কৌশল একাধিকবার সফল হয়েছে।
২. ইউরোপিয়ান ফুটবলে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা
আগের তুলনায় বর্তমান জাপান দল অনেক বেশি অভিজ্ঞ। স্কোয়াডের প্রায় ৮০ শতাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলেন।
রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে তাকেফুসা কুবো, মোনাকোর হয়ে তাকুমি মিনামিনো এবং স্টুটগার্টের হয়ে রিতসু দোয়ানের মতো ফুটবলাররা নিয়মিত উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় খেলছেন। ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মতো ব্রাজিলিয়ান তারকাদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা রয়েছে।
৩. এনদো-তানাকার নিরলস প্রেসিং
জাপানের মাঝমাঠের দুই ভরসা ওয়াতারু এনদো ও আও তানাকা। আন্তর্জাতিক ম্যাচে তারা প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে প্রায় ১১.৮ কিলোমিটার দৌড়ান বলে ফিফার ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা গেছে।
ম্যাচজুড়ে তাদের হাই-ইনটেনসিটি প্রেসিং ব্রাজিলের মিডফিল্ডকে স্বস্তিতে খেলতে দেবে না। ফলে ব্রাজিলের বিল্ড-আপ প্লে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যেতে পারে।
৪. সেট-পিসে জাপানের কার্যকারিতা
আধুনিক ফুটবলে সেট-পিস অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। জাপানের শেষ ১০টি আন্তর্জাতিক গোলের প্রায় ৩১ শতাংশ এসেছে কর্নার, ফ্রি-কিক কিংবা ডেড-বল পরিস্থিতি থেকে।
জুনিয়া ইতো ও তাকেফুসা কুবোর নিখুঁত ক্রস এবং কো ইতাকুরা ও হিরোকি ইতোর মতো লম্বা ডিফেন্ডারদের হেডিং দক্ষতা জাপানের বড় অস্ত্র। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সেট-পিস থেকেই একাধিক গোল হজম করেছে ব্রাজিল। ফলে এই দিকটি আজ নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।
৫. তারকানির্ভর নয়, দলগত ফুটবলে বিশ্বাস
জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত সমন্বয়। গত এক বছরে দলটির গোলের তালিকা দেখলে বোঝা যায়, তারা কোনো একজন বা দুজন তারকার ওপর নির্ভরশীল নয়।
ডিফেন্ডার থেকে শুরু করে বদলি খেলোয়াড়—প্রয়োজনমতো সবাই গোল করার সক্ষমতা রাখেন। ফলে ব্রাজিলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ফুটবলারকে আটকে দিয়ে জাপানের আক্রমণ থামিয়ে দেওয়া সহজ হবে না। দলগত ফুটবলই হতে পারে সামুরাই ব্লুজদের সবচেয়ে বড় শক্তি।