ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে নটিংহাম টেস্টে মাঠে নেমেছিলেন বেন স্টোকস। ম্যাচের তৃতীয় দিন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও চতুর্থ দিনে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ইংল্যান্ডের এই তারকা অলরাউন্ডার।
চলমান নটিংহাম টেস্টই হবে স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এরপর আর ইংল্যান্ডের জার্সিতে তাকে দেখা যাবে না।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের পর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সামনে নিজের সিদ্ধান্ত জানান স্টোকস। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘মাঠে গিয়ে আগামী দুদিনে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দাও।’
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানান।
স্টোকস আরও বলেন, ‘দলের জন্য, তোমাদের জন্য এবং যারা আমাদের আগে এই জার্সি পরেছেন, তাদের জন্য আমি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর মাত্র একবার সেই লড়াইটা লড়ব।’
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড স্টোকসের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা হারাচ্ছি একজন দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান, কার্যকর বোলার, অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক এবং দলের অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্বকে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার ও তার পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।’
২০১১ সালে এক মাসের ব্যবধানে ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় স্টোকসের। এরপর তিন সংস্করণেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটে, বিশেষ করে অ্যাশেজ সিরিজে, ইংল্যান্ডের বহু স্মরণীয় জয়ের নায়ক ছিলেন এই অলরাউন্ডার।
ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১২২টি টেস্ট, ১১৪টি ওয়ানডে এবং ৪৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন স্টোকস। টেস্টে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৩৭টি ফিফটিতে ৭ হাজার ২৪৩ রান করার পাশাপাশি ২৫২টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওয়ানডেতে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ২৪টি ফিফটিতে তার সংগ্রহ ৩ হাজার ৪৬৩ রান, সঙ্গে ৭৪ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে করেছেন ৫৮৫ রান এবং শিকার করেছেন ২৬টি উইকেট।