বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় দুঃসংবাদ পেল জাপান। দলের অন্যতম সেরা তারকা তাকেফুসা কুবো হাঁটুর চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না। ‘জাপানি মেসি’ খ্যাত এই উইঙ্গারকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না দলের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু।
সোমবার (২৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে জাপান। তবে কুবোর অনুপস্থিতি দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাঁ হাঁটুর মেনিসকাসে চোট পান ২৫ বছর বয়সী কুবো। এরপর তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে গ্রুপ ‘এফ’-এর বাকি দুই ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেননি তিনি।
রোববার সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত অনুশীলনে কুবোকে সতীর্থদের সঙ্গে নয়, আলাদাভাবে অনুশীলন করতে দেখা যায়। এরপরই তার ব্রাজিল ম্যাচে খেলা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন কোচ মোরিয়াসু।
তিনি বলেন, ‘সে এখনো ব্যক্তিগতভাবে দৌড়ানো ও অনুশীলন করছে। তাই ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খেলানো হবে না।’
কুবোর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে জাপানের কোচ বলেন, ‘আমরা চাই সে যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুক। সেও সেটাই চায়।’
কুবোকে ছাড়াই গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে জাপান। এর মাধ্যমে টানা তিনটি বিশ্বকাপ এবং গত পাঁচ আসরের মধ্যে চতুর্থবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় সামুরাই ব্লুজরা।
তবে ব্রাজিলকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন মোরিয়াসু। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল সবসময়ই বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। অনেকেই হয়তো আমাদের আন্ডারডগ বলবেন, কিন্তু আমরা সেটা মাথায় রেখেই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না জাপান। গত বছর প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি তুলে ধরে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছেন মোরিয়াসু।
তার ভাষায়, ‘গত বছরের ম্যাচের আগেও আমাদের জয়ের সম্ভাবনা খুব কম ধরা হয়েছিল। কিন্তু আমরা জিতেছিলাম। এবারও সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব। এই বিশ্বাসই ইতিহাস বদলে দিতে পারে।’
কুবোর অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে জাপানের অন্য ফুটবলারদের। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে দলগত নৈপুণ্যই হবে সামুরাই ব্লুজদের সবচেয়ে বড় ভরসা।