কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তিস্তা নদীর ভাঙন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক ভাঙনে ইতোমধ্যে তিনটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রাণ ও সম্পদ রক্ষায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের ফলে ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি অন্যের জমিতে সরিয়ে নিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ভেঙে যাচ্ছে বসতভিটা, আর আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় খুঁজছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
শুক্রবার সকালে স্থানীয় সচেতন নাগরিক মিলন মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙনের ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙনের চিত্র এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করেন প্রতিবেদক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তার পূর্ব তীর সংরক্ষণে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০টি প্যাকেজের কাজ চললেও ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। ফলে চলমান প্রকল্পের মধ্যেই নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহেরুল ইসলাম মাওলানা বলেন, নির্ধারিত ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজের ধীরগতির কারণে স্থানীয়রা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সময়মতো কাজ সম্পন্ন না হলে বরাদ্দ বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব মজিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং নতুন একটি প্যাকেজের কাজ বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, রামহরি এলাকায় আগে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা টেকসই হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার ওই এলাকায় নতুন করে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২৫ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদীপাড়ের মানুষের দাবি, জরুরি জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।