নেত্রকোনার মদনে দীর্ঘ ১৩ বছর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সুলতু মিয়াকে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা, সম্মাননা ক্রেস্ট, উপহার ও এককালীন আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তাকে সম্মান জানানো হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) উপজেলার মহিউদ্দিন মার্কেট জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। বিদায়ী শোভাযাত্রায় অংশ নেন অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী। প্রিয় মুয়াজ্জিনকে একনজর দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুলতু মিয়া মদন পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর মহিউদ্দিন মার্কেট জামে মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি মদন পোস্ট অফিসেও কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে সময়মতো আজান, মুসল্লিদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ ও নিষ্ঠার কারণে তিনি সবার ভালোবাসা অর্জন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তাকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া অবসর-পরবর্তী জীবনে পরিবার নিয়ে স্বচ্ছন্দে চলতে পারেন—সে লক্ষ্য থেকে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের পক্ষ থেকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার তুলে দিয়ে তাকে সম্মানিত করা হয়।
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ফকিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, ব্যবসায়ী সাজেদুল হক সাজু, সাবেক ইমাম সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শফিকুল আলম, হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
বিদায়ী মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়া বলেন, এমন ব্যতিক্রমী সম্মান ও ভালোবাসা পেয়ে আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত। সকল মুসল্লির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহর কাছে সবার জন্য দোয়া করি এবং আপনাদের কাছেও দোয়া চাই।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলম বলেন, দেশে অনেক ইমাম ও মুয়াজ্জিন দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর অবহেলিত অবস্থায় জীবনযাপন করেন। আমরা চাই, তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হোক। সুলতু মিয়াকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের বিশ্বাস, এ উদ্যোগ অন্য মসজিদ কমিটির জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।