হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন রেঞ্জের আওতাধীন শালটিলা বিট এলাকায় সংরক্ষিত বন থেকে মূল্যবান সেগুন গাছ চুরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বন থেকে গাছ কেটে বিভিন্ন করাতকলে পাচার করছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শালটিলা বিটের কাপাই সেগুনবাড়ি এলাকায় প্রায় প্রতি রাতেই সেগুন গাছ কাটা হচ্ছে। গভীর রাতে গাছ কেটে ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে বনাঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে চুনারুঘাট ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন করাতকলে এসব গাছ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে সংঘবদ্ধ চক্রটি শতাধিক সেগুন গাছ কেটে পাচার করেছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, গাছ চুরির আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ কাটার পর অবশিষ্ট গোড়ায় (মুথা) পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে দেখে মনে হয় গাছটি অনেক আগেই কাটা হয়েছে। কোথাও কোথাও গাছের গোড়া উপড়ে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে, যাতে চুরির কোনো চিহ্ন না থাকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অবগত থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং শালটিলা বিট কর্মকর্তা মোহাইমিনুল ইসলাম সানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় গাছ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শালটিলা বিট কর্মকর্তা মোহাইমিনুল ইসলাম সানি বলেন, আমরা নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছি। দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে একটি চোরচক্র কয়েকটি গাছ কেটে নিয়ে গেছে। তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, রঘুনন্দন বনাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। গাছ শুধু বন নয়, পাখি ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও। এভাবে অবাধে গাছ নিধন চলতে থাকলে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি অবিলম্বে গাছ চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংরক্ষিত বন রক্ষায় বন বিভাগের কার্যকর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, বন রক্ষায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।