রঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলা: আরিফুল-বাবরসহ খালাস ৮, মৃত্যুদণ্ড একজনের

অনলাইন ডেস্ক

সারাদেশ

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের

2026-06-25T18:15:43+00:00
2026-06-25T18:16:44+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
সারাদেশ
রঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলা: আরিফুল-বাবরসহ খালাস ৮, মৃত্যুদণ্ড একজনের
অনলাইন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম  আপডেট: ২৫.০৬.২০২৬ ৬:১৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আটজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় সৈয়দ নাইম আহমদ ওরফে নিমু (৪৫) নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য–প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতেই একজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নাইম আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে। তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

খালাস পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল, আবদুল মাজেদ বাট, নাজিউর রহমান ওরফে নাজমুল হক নাজু এবং মাওলানা তাজ উদ্দিন। এর মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা শেখ আবদুস সালাম ২০২১ সালের নভেম্বরে মারা গেলে তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

আদালত হত্যা ও বিস্ফোরক—দুটি মামলাতেই আটজনকে খালাস এবং নাইম আহমদকে দোষী সাব্যস্ত করেন। হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বিস্ফোরক মামলায় আলাদা সাজা হয়নি।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে পাঁচজন আসামি উপস্থিত ছিলেন, তিনজন জামিনে এবং একজন পলাতক ছিলেন।

রায়ের পর আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁদের মামলায় জড়ানো হয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন এবং রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নাইম আহমদের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ জানান, তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।


  বিষয়:   সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত  হত্যাচেষ্টা মামলা  আরিফুল হক চৌধুরী  লুৎফুজ্জামান বাবর  মৃত্যুদণ্ড 


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: