লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নৃশংস হামলায় আহত কিশোরী ইকরা বেগম (১৭) চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মারা গেছেন। এর ফলে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। অন্যদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে আহত অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারও (২৮) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন নদীর পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনুর বেগম (৪০) ও তাঁর তিন মেয়ের ওপর হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও তাঁর ছোট মেয়ে সিপা আক্তার (১০) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ছায়মা আক্তারকে (২১) রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত ইকরা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লা এলাকায় তিনি মারা যান।
নিহত শাহীনুর বেগমের স্বামী কামাল হোসেন কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। সিপা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত এবং ছায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার সময় ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মামুনুর রশিদ জানান, শাহীনুর বেগম ও সিপাকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছিল। ছায়মা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান এবং ইকরা ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারেরও মৃত্যু হয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্তের সঙ্গে নিহত পরিবারের পূর্ব পরিচয় বা কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত হতে পারেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।