দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। আগে সরকারি চাকরিজীবীরা এ পেনশন স্কিমের আওতায় থাকলেও এখন সকলেই এ সুবিধা পাবে। কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গৃহিণীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে ৬০ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা পাবেন। কেউ ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করলে জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ নমিনি ব্যক্তিকে প্রদান করা হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা দুইটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পেনশনবিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা আমার নিজের জেলা। এখানে অনেক স্মৃতি আছে আমার। এখানকার মাটি ও মানুষের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত আমি। নিজের জনপদে এভাবে আসতে পেরে নিজেকে আমি ধন্য মনে করছি।’
তিনি বলেন, বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় চারটি স্কিম চালু রয়েছে। এগুলো হলো- প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা। এর মধ্যে প্রবাস স্কিম প্রবাসীদের জন্য, প্রগতি স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য, সুরক্ষা স্কিম স্বকর্মে নিয়োজিত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য এবং সমতা স্কিম স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম. তারিক-উজ-জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।