বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই দেখা যাচ্ছে নতুন এক বাস্তবতা। গ্রুপ পর্বে শীর্ষ দুইয়ে না থেকেও নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে দলগুলো। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত আসরকে আরো প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে ফরম্যাটে বড় পরিবর্তন এনেছে ফিফা, যেখানে গ্রুপের তৃতীয় স্থান অধিকারীদের জন্যও রাখা হয়েছে শেষ ৩২–এর টিকিট। ফলে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকছে নকআউটে ওঠার লড়াই।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, আগের ৮টি গ্রুপের পরিবর্তে এবার আছে ১২টি গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে উঠে যাবে। তবে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলো সঙ্গে সঙ্গেই বিদায় নেবে না।
বরং গ্রুপ পর্ব ২৭ জুন শেষ হওয়া পর ১২টি গ্রুপের ১২টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের মধ্যে সেরা ৮টি দলও নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। ফলে রাউন্ড অব ৩২ গঠিত হবে ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলসহ মোট ২৪টি দল এবং সেরা ৮টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নিয়ে।
মোট ৩২টি দেশ নকআউট পর্বে খেলবে, যার ফলে আরো বেশি দল টুর্নামেন্টে দীর্ঘ সময় লড়াইয়ে টিকে থাকার সুযোগ পাবে।
তবে সব তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পরের রাউন্ডে উঠতে পারবে না। ফিফা ১২টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে একটি আলাদা সামগ্রি টেবিলে র্যাঙ্ক করবে এবং সেখান থেকে সেরা ৮টি দলই নকআউট পর্বে যাবে।
যদি একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয় তাহলে ক্রমান্বয়ে নিচের মানদন্ডগুলো বিবেচনা করা হবে :
গোল ব্যবধান, মোট গোলসংখ্যা, ফেয়ার প্লে রেকর্ড, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে রাউন্ড অব থার্টি টুতে উন্নীত করবে।
ফলে কোনো দল শুরুতে খারাপ ফল করলেও তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ এখনো থাকছে।
এই সম্প্রসারিত ফরম্যাটের কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলগুলো এখন শুধু নিজেদের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকার জন্যই নয়, বরং টুর্নামেন্টের সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর মধ্যে জায়গা পাওয়ার জন্যও লড়াই করছে।