কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত জোড়া গোলে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বারবার চাপ সৃষ্টি করে ফরাসিরা। দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখা এমবাপে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে নিজের তারকাখ্যাতির প্রমাণ দেন। তার নৈপুণ্যে ভর করে সহজ জয় পাওয়া ফ্রান্স এখন শিরোপার লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
স্থানীয় সময় বিকাল পাঁচটায় শুরু ম্যাচ শেষ হলো রাত প্রায় ৯টায়! বৈরি আবহাওয়ায় প্রথমার্ধের পর খেলা বন্ধ ছিল যে দুই ঘন্টার বেশি সময়। তার আগে-পরে আলো ছড়ালেন কিলিয়ান এমবাপে। ইরাককে অনায়াসে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল দিদিয়ে দেশমের দল।
ফিলাডেলফিয়ায় ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। তাদের অন্য গোলদাতা উসমান দেম্বেলে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত তিনটায় শুরু ম্যাচটি শেষ হয় মঙ্গলবার সকাল সাতটার কাছাকাছি সময়ে। এবারের বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ল। চোখধাঁধানো এক গোলে দলকে এগিয়ে নেওয়া এমবাপে বিরতির পর করেন দ্বিতীয় গোল। আসরে দুই ম্যাচে তার গোল হলো চারটি।
বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১৬ ম্যাচে এমবাপের গোল এখন ১৬টি। এবারের আসর শুরুর আগে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন যিনি, সেই মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসলেন তিনি। সোমবার ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এককভাবে চূড়ায় ওঠেন লিওনেল মেসি (১৮)।
প্রথমার্ধে ফ্রান্সের খেলায় দাপট ছিল না খুব একটা। গোলের জন্য সাতটি শট নিয়ে কেবল একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ১২টি শট নিয়ে তারা চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। পুরো ম্যাচে ইরাকের চার শটই ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম এশিয়ান দল হিসেবে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচের সবকটি হারের তেতো স্বাদ পেল ইরাক। দুই ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ফ্রান্স। সমান ম্যাচে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে চারে ইরাক।
শুরু থেকে ইরাককে চাপ দিতে থাকে ফ্রান্স। চতুর্দশ মিনিটে দর্শনীয় এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন প্রথম ম্যাচেও জোড়া গোল করা এমবাপে। তার পাস প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার আটকে দেওয়ার পর তাকেই খুঁজে নেন মাইকেল ওলিসে। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির নিখুঁত শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধে আর উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি গতবারের রানার্সআপরা। ম্যাচের আগে থেকেই ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস ছিল। প্রথমার্ধে খেলার মাঝেই নামে তুমুল বৃষ্টি।
এই বিশ্বকাপে নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে, খেলা ৩০ মিনিটের জন্য স্থগিত থাকবে এবং দর্শকদের নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হবে। সেটিই কার্যকর করা হয় প্রথমার্ধের বিরতিতে।
স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দর্শকদের গ্যালারি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। গ্যালারিও প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। বৃষ্টি কমলে আবার ফিরতে শুরু করে দর্শক।
কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় খেলা শুরু করা যাচ্ছিল না। অবশেষে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধের খেলা।
প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে ৫৪তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান এমবাপে। বক্সে ইরাকের ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেম পাস দেন গোলরক্ষকের উদ্দেশ্যে, বল একটু বেশি জোরে চলে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি আহমেদ বাসিল।
উসমান দেম্বেলে নিঃস্বার্থভাবে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপের দিকে, সহজেই জালে পাঠান ফ্রান্সের রেকর্ড স্কোরার।
সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সাবেক স্ট্রাইকার অলিভিয়ে জিঁরুকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের সফলতম গোলস্কোরার হন এমবাপে। জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ৬০টি।
চার মিনিট পর দারুণ একটি গোল পেতে পারতেন মাইকেল ওলিসে। তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৬৬তম মিনিটে পরের গোলে অবদান রাখেন ওলিসে। তার পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে পাঠান দেম্বেলে।
ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপে এসে প্রথম গোলের দেখা পেলেন পিএসজি ফরোয়ার্ড! বাকি সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি কেউ।