বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়েছিল ‘এ’ গ্রুপের দুই দল স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘটনাবহুল সেই ম্যাচে টুর্নামেন্টের আয়োজকরা জেতে ২-০ ব্যবধানে। একই গ্রুপের আরেক ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ে আসর শুরু করল এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথমে গোল হজম করলেও তারা চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়াম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় ‘এ’ গ্রুপের দল দুটি। যেখানে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। নিজের চতুর্থ আসরে কোরিয়ানদের নেতৃত্ব দিতে নামা ৪০ বছর বয়সী তারকা সন হিউং-মিনও একের পর এক আক্রমণ করছিলেন। তবে তিনি গোল পাননি।
চেক প্রজাতন্ত্রকে অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি ৫৯ মিনিটে এগিয়ে দেওয়ার পর দ. কোরিয়ার পক্ষে একটি গোল করেছেন হোয়াং ইন-বম এবং ওহ হিউয়ান-গিউ। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এশিয়ান দেশটি। বিপরীতে ২০ বছর পর হার দিয়ে বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন হলো চেক প্রজাতন্ত্রের।
বিশ্বকাপে এখন সর্বশেষ সাত আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেবল একবারই হেরেছে কোরিয়ানরা। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে তাদের জয় আট ম্যাচে। এর মধ্যে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়া চার ম্যাচেই তারা প্রথমে গোল হজম করেছিল। এ ছাড়া চেকিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপের মূলপর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার আগের ৭ জয়ের ৬টিই ছিল ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো আরেকটি জয়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচটি অবশ্য প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতায় ছিল। গোলের সুযোগ তৈরি হলেও কেউ ফিনিশিং দিতে পারেনি। বিরতির পর আক্রমণ বাড়ে উভয় শিবিরে। ৫৯ মিনিটে চেক অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি ডিফেন্ডার ভ্লাদিমির সুফালের লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে হেডে জাল খুঁজে নেন। চেক প্রজাতন্ত্রের উল্লাসের লাগাম টেনে ৮ মিনিটের মাথায় হোয়াং ইন-বম কোরিয়ানদের সমতায় ফেরান। চেক ডিফেন্ডার রবিন হ্রানাচকে কাটিয়ে গোলরক্ষক মাতেয় কোভারের ওপর দিয়ে বল তুলে দেন তিনি।
চেকিয়ারা আবারও লিডে ফিরছিল ৭৭তম মিনিটে। টমাস সৌচেক ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠানোর পর আরেক সতীর্থে অফসাইডে সেটি বাতিল হয়ে যায়। তিন মিনিট বাদে দারুণ ক্রস বাড়ানো বল পেয়ে কয়েক গজ দূর থেকে শট নেন ওহ হিউয়ান-গিউ। বল গোলরক্ষক কোভারের হাতে লেগে দূরের কোণ দিয়ে জালে জড়ায়।
মরিয়া চেকিয়া শেষ দিকে বেশ কিছু আক্রমণ করে। দুই দফায় গোলের কাছাকাছিও যায় তারা। কিন্তু দুবারই দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোরিয়ার গোলকিপার কিম সুং-গিউ।
ম্যাচের ৬২ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রাখে কোরিয়া। গোলে শট নেয় ১৫টি, এরপর ৭টি থাকে লক্ষ্যে। জয়ের ব্যবধানে সেই দাপটের প্রতিফলন না পড়লেও তিন পয়েন্টের উচ্ছ্বাসে মাঠ ছাড়ে তারা। ম্যাচের পর তাদের উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, এই জয় কতটা মূল্যবান তাদের কাছে।