খুলনায় টানা বর্ষণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা

খুলনা প্রতিনিধি

সারাদেশ

খুলনায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত টানা সোয়া চার ঘণ্টার ভারী বর্ষণে

2026-06-11T20:16:55+00:00
2026-06-11T20:16:55+00:00
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
সারাদেশ
খুলনায় টানা বর্ষণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা
খুলনা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম 
ছবি ভোরের ডাক
খুলনায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত টানা সোয়া চার ঘণ্টার ভারী বর্ষণে শিল্পনগরী খুলনার প্রধান প্রধান সড়ক হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে, বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বৃষ্টি ধীরে ধীরে মুষলধারে রূপ নেয় এবং রাত ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ে খুলনা পাওয়ার হাউজ মোড়, রূপসা, লবণচরা, খানজাহান আলী রোড, আহসান আহমেদ রোড, গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ী, নিরালা, টুটপাড়া, মজিদ সরণি, দৌলতপুর ও খালিশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে রয়েল মোড় এলাকায় পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।

পানি জমে থাকায় রিকশা, মাহিন্দ্রা, সিএনজি, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষকে হাঁটু পানির মধ্যেই চলাচল করতে দেখা যায়। কেউ ছাতা নিয়ে, কেউবা বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না থাকা এবং রাস্তা খুঁড়ে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এই সমস্যা এখন নগরবাসীর জন্য “দুর্ভোগের স্থায়ী চিত্র” হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুড়িপট্টি এলাকার বাসিন্দা আলী হাসান বলেন, সারাদিনের ভ্যাপসা গরমের পর বৃষ্টি স্বস্তি দিলেও জলাবদ্ধতায় অফিসে যেতে চরম ভোগান্তি হয়েছে।

শিববাড়ী এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, বৃষ্টি কিছুটা ঠান্ডা পরিবেশ দিলেও রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।

চালকল মালিক সাগর জানান, বৃষ্টির পানি তার মিলের ভেতরে ঢুকে ক্ষতির সৃষ্টি করেছে, পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটেছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।

সুজন খুলনার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালা-নর্দমা ভরাট এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তিনি নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের আহ্বান জানান।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, রূপসা নদীতে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া, পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং পাম্প হাউজ ও স্লুইচ গেট অকার্যকর থাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিন মাস ধরে পর্যবেক্ষণ চলছে এবং বর্ষা মৌসুমে ড্রেন খনন কাজ বন্ধ রেখে পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্ষার এ ধারাবাহিকতায় নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হয়।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: