মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার এক কিশোরী ও চীনের এক নাগরিকের মধ্যে। সেই প্রেমের টানেই বাংলাদেশে আসেন ওই চীনা নাগরিক। তবে শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই তাকে দেশে ফিরে যেতে হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১০ জুন) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর পার সাঁওতা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কুমারখালীর রিয়া আক্তারের সঙ্গে চীনা নাগরিকের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কথাবার্তা ও যোগাযোগ বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। সম্পর্কের টানেই বুধবার সকালে তিনি ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। পরে রিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে কুমারখালীতে নিয়ে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি বিয়ের উদ্দেশ্যে থাকার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। পরে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।
রিয়া আক্তার জানান, অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে তিনি বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় এবং বয়স কম থাকায় পরিবার বিয়েতে রাজি হয়নি। তাই বিয়ে স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি জানান, বয়স পূর্ণ হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মেয়ের মা বলেন, পরিচয়ের বিষয়টি তারা জানতেন। কিন্তু মেয়ের বয়স কম হওয়ায় এখনই বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।
চীনা নাগরিক জানান, সম্পর্কের টানেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বিয়ে করে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। তবে পারিবারিক ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে বিয়ে সম্ভব হয়নি। তিনি পরে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আগে ঘটেনি। বিদেশি একজন নাগরিকের এমন আগমন ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি জানার পর প্রশাসন সতর্ক ছিল এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়নি, ফলে শেষ পর্যন্ত বিদেশি ওই ব্যক্তি নিজ দেশে ফিরে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ে হয়নি। পরে তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন।