নামজারি শুনানির সময় জাল দলিল প্রদর্শনের অভিযোগে এক দলিল লেখক ও এক জমির মালিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। দলিল যাচাইয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রওশন কবির।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ডিমলা উপজেলা ভূমি অফিস-এ নামজারি মামলা নং-৪৬৫৩/২৫-২৬ এর শুনানি চলছিল। শুনানির সময় সাব-কবলা দলিল নং-২১১৩/২৩ উপস্থাপন করা হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রওশন কবিরের সন্দেহ হয়। পরে তিনি দলিলটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, দলিলের তফসিলের পাতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। জালিয়াতির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নামজারির আবেদনকারী বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া ডাঙ্গারহাট এলাকার মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে মো. লিয়াকত আলী (৪৭) এবং ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্য ছাতনাই ময়দানের ডাঙ্গা গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে তহমিদুল ইসলাম সুমন (৪২)-কে আটক করা হয়। পরে তাদের ডিমলা থানা-এ সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার তরনী কান্ত বাদী হয়ে ডিমলা থানা-এ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৫(১)(গ) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ১২, তারিখ ৯ জুন ২০২৬।
ডিমলা থানা-এর ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর অবস্থান ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নামজারি ও দলিল যাচাই প্রক্রিয়ায় জাল নথি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।