অবশেষে এক সপ্তাহ বিলম্বে দেশের আকাশে ডানা মেলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই মৌসুমি বায়ুর সবচেয়ে জোরালো প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় জেলাগুলোতে। গত রোববার থেকেই বন্দরনগরীসহ এই বিভাগের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির বেগ বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার ও চট্টগ্রামের আকাশ মূলত মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং দিনভর দফায় দফায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে এখনই কমছে না ভ্যাপসা গরম ও শারীরিক অস্বস্তি।
আবহাওয়াবিদদের সূত্রমতে, গত শনিবার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টেকনাফ সীমান্ত হয়ে এই মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে এবার প্রায় সাত দিন দেরিতে বর্ষার আগমন ঘটল। সাধারণত বর্ষা এলে দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি শুরু হলেও, এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রম।
স্থলভাগে আগে থেকেই সক্রিয় থাকা পশ্চিমা লঘুচাপের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা এই নতুন জলীয় বায়ু। দুই বিপরীতমুখী বায়ুর এই লড়াইয়ের কারণে দেশের অন্যান্য প্রান্তে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের অন্যত্র বৃষ্টি কমলেও চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, ইতিমধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তথা সমগ্র চট্টগ্রাম বিভাগ এবং দক্ষিণের উপকূলীয় এলাকায় মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছে।
চট্টগ্রাম ও এর সংলগ্ন পাহাড়ি-উপকূলীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণের সাতক্ষীরা এলাকায় মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বেশ জোরালো। এর প্রভাবে আজ চট্টগ্রামের অধিকাংশ জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্য জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
ড. মো. সাদেকুল আলম আবহাওয়াবিদ ও ইনচার্জ চট্টগ্রাম জানান, বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শরীরে ঘাম হওয়া এবং ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থেকেই যাবে। চট্টগ্রামের পারদ এর চেয়ে নিচে থাকলেও বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তির নিয়ম অনুযায়ী ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা গেলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। আজ মঙ্গলবারও এই তাপমাত্রা অপরিবর্তিত বা সামান্য বাড়তে পারে।বর্তমানে চট্টগ্রাম স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালগুলোতে বসবাসকারীদের পাহাড় ধসের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকতে পারে বিধায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে আবহাওয়ার গতিবিধির ওপর সতর্ক নজর রাখতে অনুরোধ করেছে প্রশাসন।