জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বগুড়ায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নজরুলসঙ্গীত শিল্পী স্বপন মুখার্জি, জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখা শিশু শিল্পী আজমাইন আরহাম প্রান্ত এবং সৌমিকা লাহিড়ীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
শুক্রবার রাতে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নজরুল পরিষদ বগুড়ার আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির। সভাপতিত্ব করেন নজরুল পরিষদ বগুড়ার উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার আহ্বায়ক ওয়াহিদ মুরাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ।
এ সময় বক্তব্য দেন নজরুল পরিষদ বগুড়ার আহ্বায়ক আসাদ হোসেন ও সচিব হাকীম এমএ মজিদ মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি ও সাংবাদিক এইচ আলিম।
বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বৈষম্যহীন ও সাম্যময় মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। তাঁর সাহিত্যকর্মে উঠে এসেছে মানুষের মুক্তি, শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবকল্যাণের কথা। মানবতাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ নজরুল ছিলেন প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি। মানুষের অপমান, শোষণ ও সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট তাঁকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল। তবে তাঁর বিদ্রোহ ছিল ধ্বংসের জন্য নয়, বরং মানবমুক্তির জন্য।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নজরুল পরিষদ বগুড়ার সদস্য মোতাহার হোসেন, বিল্লাল হোসেন, সাঈদ মালিথা ও উজ্জ্বল।
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সঙ্গীত প্রশিক্ষক আসাদ হোসেন, কণ্ঠশিল্পী আব্দুস সালাম এবং কণ্ঠশিল্পী আলমগীর কবির।
রাতে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সংবর্ধিত শিল্পী স্বপন মুখার্জি, প্রণব কান্ত সান্যাল, শুক্লাধর, প্রবাক বিশ্বাস ও সৌমিকা লাহিড়ী। কবিতা আবৃত্তি করেন প্রীতি দত্ত, লুবনা জাহান, আভা, প্রজন্ম সান্যাল ঋক, ঈপ্সিতা ও জয়ীতা মালাকার। নৃত্য পরিবেশন করেন শতরূপা সান্যালসহ অন্যান্য শিল্পীরা।