সুন্দরবনে তিন মাসের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও বিষ (কীটনাশক) ব্যবহার করে মাছ শিকার এবং শুঁটকি তৈরির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। এ সময় দুই বস্তা শুঁটকি, চার বোতল কীটনাশক, দুটি ডিঙি নৌকা ও মাছ আহরণের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ শুঁটকি তৈরির আস্তানাও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ জুন) বিকেলে পূর্ব সুন্দরবনের চরাপুটিয়া ফরেস্ট অফিসের আওতাধীন শিয়ালা নদীর অফিস খাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন বনরক্ষীরা। তবে অভিযানের খবর পেয়ে জড়িত জেলেরা গহীন বনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
চরাপুটিয়া ফরেস্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, একদল অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে সুন্দরবনে প্রবেশ করে কীটনাশক ব্যবহার করে মাছ শিকার করছিল। পরে বনের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা মাচায় আগুনের তাপে সেই বিষাক্ত মাছ শুকিয়ে শুঁটকি প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনরক্ষীরা অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে শুঁটকি, কীটনাশক, নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে। একই সঙ্গে অবৈধ শুঁটকি তৈরির আস্তানাটি ধ্বংস করা হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে থাকা ৪ থেকে ৫ জন জেলে পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, মৎস্যসম্পদের নিরাপদ প্রজনন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে বন বিভাগ গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসের জন্য বনজীবী ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।