ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, সড়কি ও ইটপাটকেল নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আকরাম খান ফেসবুক লাইভ করেন। ওই লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, উপকারভোগীদের ১০ কেজি চালের পরিবর্তে ৭ থেকে ৮ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবলাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আকরাম খানের সঙ্গে চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লার ভাই চন্দন মোল্লার বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয়পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের বিরোধও এ ঘটনায় প্রভাব ফেলেছে।
চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লা বলেন, চাল বিতরণের দায়িত্বে সদস্যরা ছিলেন এবং তিনি অসুস্থতার কারণে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। যাচাই-বাছাই ছাড়া তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে আকরাম খান বলেন, গরিব মানুষের প্রাপ্য চাল কম দেওয়ার অভিযোগ সামনে আনতেই তিনি লাইভ করেছিলেন। পরে তাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
ভাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল আমিন মিয়া জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভিডিও ভাইরালের ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।