ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলীসহ বিভিন্ন পশুর হাটে শেষ সময়ে গরুর দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ক্রেতার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় অনেক খামারি ও ব্যাপারী বাধ্য হয়ে লোকসানে গরু বিক্রি করছেন। অনেকে আবার অবিক্রিত পশু ট্রাকে করে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটজুড়ে একের পর এক ট্রাকে গরু তোলা হচ্ছে। বিক্রি না হওয়া পশু বাড়ি ফিরিয়ে নিতে পরিবহনের জন্য ছোটাছুটি করছেন অনেক ব্যবসায়ী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি ৩৮টি গরু নিয়ে হাটে এলেও ১৬টি বিক্রি হয়নি। তার ভাষ্য, কয়েকদিন আগেও একটি গরুর দাম ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ঋণের চাপ থাকায় কম দামেই গরু ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।
একই চিত্র মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লাভলুর ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, ৪৪টি গরু নিয়ে এলেও বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১৩টি। বাকি পশু ফেরত নিতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, “এবার গরুর সঙ্গে আমরাও কোরবানি হয়ে গেলাম।”
খামারি ও ব্যাপারীদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও কাদার কারণে হাটে পশু রাখাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক পশু অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় বড় ক্ষতি মেনেই গরু বিক্রি করেছেন তারা। কারও কারও দাবি, প্রতি গরুতে লাখ টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে।
তবে দামের এই পতনে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, ঈদের আগের দিনের তুলনায় গরুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ক্রেতা মোহাম্মদ ফারদিন জানান, আগে যে গরুর দাম ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটি তিনি কিনেছেন ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। আরেক ক্রেতা সাহেদ বলেন, ঈদের আগের দিন থেকেই বাজারে গরুর দাম কমতে শুরু করায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে কোরবানির পশু কিনতে পারছেন।
ব্যাপারীদের দাবি, এ বছর দেশে কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার ভোর থেকেই গরুর দাম কমতে শুরু করে বলে জানান তারা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল আজহায় দেশে ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছিল। আর চলতি বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ।