ঢালিউডের সুপারস্টার থেকে যেন এবার সত্যিকারের ‘রকস্টার’ হয়ে উঠছেন শাকিব খান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষস্থান ধরে রাখা এই অভিনেতার ক্যারিয়ার শুধু জনপ্রিয়তার নয়, বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে ফেলার এক বিরল উদাহরণও।
২৬ বছরের দীর্ঘ পথচলায় তিনি দেখেছেন সিঙ্গেল স্ক্রিনের স্বর্ণযুগ, মাল্টিপ্লেক্সের উত্থান, ওটিটির বিস্তার এবং দর্শকের রুচির বড় পরিবর্তন। কিন্তু পরিবর্তনের এই স্রোতের মাঝেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন অসাধারণ স্থিরতায়। একসময় বছরে ১০-১২টি সিনেমায় অভিনয় করেও যেমন ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, এখন বছরে দুই ঈদে দুটি সিনেমা করেও তিনিই থাকেন ঢালিউডের প্রধান আকর্ষণ।
গত ঈদে মুক্তি পাওয়া তাঁর সিনেমা প্রিন্স প্রত্যাশামতো সাফল্য পায়নি। বড় বাজেট, জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা এবং দর্শকের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে সিনেমাটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি। তবে ব্যর্থতার ছাপ যেন স্পর্শই করতে পারেনি শাকিব খানকে। কারণ তিনি জানেন, ঢালিউডে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় কৌশল হচ্ছে থেমে না থাকা।
‘প্রিন্স’-এর পরপরই তিনি শুরু করেন নতুন সিনেমা রকস্টার–এর কাজ। নামের মধ্যেই রয়েছে তারকাখ্যাতি, সংগীত, উন্মাদনা আর স্টাইলের আভাস। তবে সিনেমাটির গল্পের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে শাকিব খানের বদলে যাওয়া উপস্থিতি।
অ্যানিমেশন টিজার, প্রথম টিজার এবং গান প্রকাশের পর সম্প্রতি প্রকাশিত দ্বিতীয় টিজারে দেখা গেছে একেবারে নতুন এক শাকিব খানকে—ছিপছিপে, মেদহীন, আরও স্টাইলিশ এবং আত্মবিশ্বাসী। গত কয়েক বছরে তাঁর সিনেমাগুলোতে যে শারীরিক ভারিক্কি ভাব দেখা গিয়েছিল, ‘রকস্টার’-এ এসে যেন সেখান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছেন তিনি। হাঁটা, চোখের অভিব্যক্তি, লুক কিংবা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ—সবকিছুতেই রয়েছে নতুনত্বের ইঙ্গিত।
চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘প্রিন্স’ যতটা হতাশ করেছে, ‘রকস্টার’ ততটাই আশাবাদী করছে দর্শককে। অনেকেই সিনেমাটিকে শাকিব খানের নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের এক বিশেষ প্রকল্প হিসেবে দেখছেন। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তিনি যেন আবারও বুঝিয়ে দিচ্ছেন—জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে সময়ের সঙ্গে নিজেকেও বদলাতে হয়।
শুধু লুক নয়, চরিত্রটির জন্য নিজের জীবনযাপনেও পরিবর্তন এনেছেন এই অভিনেতা। খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং স্টাইলিং—সবকিছুতেই ছিল বাড়তি মনোযোগ। কারণ তিনি জানতেন, ‘রকস্টার’-এর দর্শক শুধু একটি গল্প দেখবে না; তারা দেখবে একজন সুপারস্টারের নতুনভাবে ফিরে আসাও।
সিনেমাটি নিয়ে শাকিব খান বলেন, প্রতিটি প্রজেক্ট আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতার, নতুন কিছু দেওয়ার। ‘রকস্টার’ও ব্যতিক্রম নয়। যারা আমাকে ভালোবাসেন, তারা এবারও দারুণ কিছু পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে মিউজিক্যাল ফিল্ম খুব একটা হয়নি। এটি একটি মিউজিক্যাল ফিল্ম, সেই সঙ্গে একজন রকস্টারের জীবনের গল্প। সব মিলিয়ে সিনেমাটি সব শ্রেণির দর্শকের জন্য উপভোগ্য হবে।
সিনেমাটির নির্মাতা আজমান রুশো, যিনি সংগীতচর্চা ও বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত। আর শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন সাবিলা নূর। ফলে মুক্তির আগেই সিনেমাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।
শাকিব খানকে নিয়ে প্রায়ই আলোচনা ওঠে—এই বুঝি তাঁর সময় শেষ। কিন্তু প্রতিবারই তিনি নতুনভাবে ফিরে এসে সেই আলোচনাকে ভুল প্রমাণ করেন। ৫০ ছুঁইছুঁই বয়সেও চলনে-বলনে এখনও যেন নিজেকে ৩০-এর ঘরেই ধরে রেখেছেন তিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে বহু তারকার জনপ্রিয়তা একসময় এসে থেমে গেলেও শাকিব খান যেন ঠিক উল্টো পথে হাঁটছেন। যখনই মনে হয় তাঁর আর নতুন কিছু দেখানোর নেই, তখনই তিনি হাজির হন নতুন এক চমক নিয়ে।