রাজবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ ও শেষ মুহূর্তের যাতায়াত প্রবণতার কারণেই অনেক সময় বাড়তি ভাড়া নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও রাজবাড়ী সার্কেলের উদ্যোগে আয়োজিত গণসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অনেক যাত্রী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে আগেভাগে টিকিট কেটে বাসে ওঠার পরিবর্তে শেষ সময়ে যেখানে সুযোগ পান সেখান থেকেই যানবাহনে ওঠেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটির সময় এ প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হলে কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে পরিবহন ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে ভাড়া আদায়কে সমর্থন করা হয় না। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে এবং অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গত ঈদে ২৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও এবার তা বাড়িয়ে ৬৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। যেসব এলাকায় যাত্রীচাপ বেশি থাকে এবং দীর্ঘ যানজট বা লাইনের সৃষ্টি হয়, সেসব স্থানে নজরদারি জোরদার করা হবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে রাজবাড়ীর বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ৬২টি পরিবারের মাঝে মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ, গুরুতর আহতদের ৩ লাখ এবং সাধারণ আহতদের ১ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।