নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে উদ্ধার হওয়া বেইজ স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (১৭) হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ মাস পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল আসামীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া একজন আসামী আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (১০ মে ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত পিবিআই’র কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসকল তথ্য জানান পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামাল।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মে দুপুরে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে মামলার মূল আসামী মোঃ আজিম হোসাইনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ মে সকালে শনিরআখড়া এলাকা থেকে দ্বিতীয় আসামী ফয়সালকে আটক করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় রূপগঞ্জের বরাব এলাকা থেকে নুসরাত জাহান মিমকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এসময় তার কাছ থেকে একটি রেডমি ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নিহত ইয়াছিন আরাফাত নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকার উত্তর চাষাঢ়ায় পরিবারসহ বসবাস করতেন এবং স্থানীয় বেইজ স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১১ আগস্ট ২০২৫ সন্ধ্যায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
দুইদিন পর, ১৩ আগস্ট সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার আশরাফ আলী এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে ডিএনডি লেকের পানিতে ইয়াছিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আফরিনা নাসরিন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন কিংবা জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী আজিম হোসাইনের সঙ্গে নুসরাত জাহান মিমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ২০২০ সালে তারা বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে কলহ ও পারস্পরিক সন্দেহের কারণে তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তারা আলাদাভাবে বসবাস শুরু করেন।
ঘটনার প্রায় এক মাস আগে আজিম তার স্ত্রী মিমের মোবাইল ফোনে ইয়াছিন আরাফাত নামের এক ব্যক্তির ম্যাসেজ দেখতে পান। এরপর থেকেই তিনি সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা যায়, নিহত ইয়াছিন আরাফাত আসলে মিমের ফুফাতো ভাই। তবে আজিম তাকে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক মনে করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
এই সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পিবিআই।মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।