এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি কী আগের মতোই দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারি কায়দায় সরকার চালাবে নাকি আদতেই ৩১ দফার ভিত্তিতে তারা রাষ্ট্র মেরামত করবে গত ২ মাসে জনগণ তা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে। ২ মাসেই জনগণ বুঝে গেছে বিএনপি’র নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন কেমন হবে!
আজ সকাল ১০ টায় এবি পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান এ বক্তব্য দেন।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া,অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
দলের কেন্দ্রীয় অফিস সংলগ্ন বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ।শোভাযাত্রাটি বিজয় ৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, নাইটিংগেল ও কাকরাইল হয়ে আইডিইবি ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
মঞ্জু বলেন,বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর পরিবর্তন, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ, বিসিবি নির্বাচিত বোর্ড বাতিল করে মন্ত্রীর সন্তানদের দিয়ে বোর্ড গঠন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলের মহড়া ও সন্ত্রাস, থানার ভেতরে গিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা, ২ মাসে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, সংকট না থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানির জন্য হাহাকার, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোড শেডিংয়ের আতংক, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ভয়াবহতা এরকম শত শত ঘটনা ও পরিসংখ্যান পরিস্কার বার্তা দেয় কেমন যাবে বিএনপি’র আগামী ৫৮ মাস!
তিনি আরোও বলেন, আমরা একটা স্বপ্ন নিয়ে এবি পার্টি করি, আমরা যে রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলেছিলাম,আমরা যে কাঠামোগত সংস্কারের স্লোগান তুলেছিলাম সেটি এখন সবার মুখে মুখে। খুবই ভালো লাগে আমাদের বন্ধুরা অনেকেই সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগান দেয় কিন্তু স্লোগান গুলো হৃদয় দিয়ে ধারন করেন না। সবার আগে বাংলাদেশের পরিবর্তে তারা সবার আগে দলীয় নীতিতে চলে গিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।এবি পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অঙ্গিকার হচ্ছে আমাদের স্বপ্ন আমরা যে কোন মূল্যে বাস্তবায়ন করবোই।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন,আপনারা জানেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ছিলেন আপোষহীন নেত্রী কিন্তু তাঁর সেই রেখে যাওয়া বিএনপির একজন নেতার গতপরশু দিনের বক্তব্য দেশবাসী হতাশ হয়েছে, উনি বলেছেন উনারা নাকি শুধু মাত্র একটি নির্বাচনের জন্য সংস্কার নিয়ে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন। এটি দেশের জন্য লজ্জার! যা আবার প্রধানমন্ত্রী টেবিল চাপড়িয়ে অভিবাদনও জানিয়েছেন।
দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বর্তমান সময়ে নতুন রাজনীতির বন্দোবস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সেবা ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক রাজনীতি, রাজপরিবারের বাইরে বিকল্প নেতৃত্বের উত্থান,এসব এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়। তিনি বলেন, এবি পার্টি শুরু থেকেই যেসব তর্ক ও প্রস্তাব সামনে এনেছিল, সেগুলো আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। পুরনো ধ্যান-ধারণার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে দাবি আজ জোরালো হয়েছে, তা এবি পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই তুলে আসছে। প্রতারণামূলক পুরনো রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটিয়ে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নতুন ধারার রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।
প্রফেসর মিনার বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা অটল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়ন ও রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আমরা অতীতে রাজপথে ছিলাম, ভবিষ্যতেও জনগণের অধিকার আদায়ে যেকোনো প্রয়োজনে রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল বাসেত মারজান, অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেনে,সাংগঠনিক সম্পাদক ( বরিশাল) গাজী নাসির,ক্রীড়া সম্পাদক মিয়া মোহাম্মাদ তৌফিক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান,শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর,গাজীপুর মহানগরর আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন,এবি শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স,কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সম্পাদকসুলতানা রাজিয়া,কুমিল্লা মহানগরর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, রংপুর মহানগরের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক( ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও নারী নেত্রী রাশিদা আক্তার মিতু।