ই-পেপার বাংলা কনভার্টার শনিবার ● ২ মে ২০২৬ ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-পেপার শনিবার ● ২ মে ২০২৬
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আনন্দে ভাসছে সিলেট
সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৩:১২ পিএম  (ভিজিটর : ২৩)
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো শনিবার (২ মে) সিলেট সফরে আসছেন তারেক রহমান। তাঁর হাত ধরেই শুরু হতে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের জন্য বিশেষ ক্রীড়া উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প।

উৎসবমুখর পরিবেশে উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন বার্তা নিয়ে সিলেটে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই সফর ঘিরে সিলেটে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। এখান থেকেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বড় উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর যাত্রা শুরু হবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সিলেটের জামাইকে বরণ করতে ইতিমধ্যে প্রস্তুত পর্যটন ও আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট।

এ সফরে সিলেটের উন্নয়নে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার একটি মহাপরিকল্পনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সুরমা নদী কেন্দ্রিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুইস গেইট স্থাপন এবং নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া নদী খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে প্রথম শুরু করেছিলেন। একই দিনে জিন্দাবাজারে ওভারসিজ সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ ’-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শনিবার জেলা স্টেডিয়ামে এই বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। ফুটবল, ক্রিকেট ও কাবাডিসহ মোট আটটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে দেশের তরুণ প্রজন্ম।

সিলেটের ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. নূর হোসেন বলেন, আটটি ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এ উপলক্ষে ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

সিলেটে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং মোনাজাতে অংশ নেবেন।

দরগাহ-এ-হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর খাদেম সামুন মাহমুদ খান বলেন, ২ তারিখ প্রধানমন্ত্রী আসছেন। তিনি এখানে আসছেন বলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর আগে তার বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-ও এখানে এসেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সিলেট বিএনপির এক নেতা বলেন, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখানে এসেছিলেন। আজ তাঁরই সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিলেটে আসছেন। তাই আমরা স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত আনন্দিত।

সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। রাস্তা মেরামত, সড়কের পাশে গাছপালা ছাঁটাই, সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। সিলেট সিটি করপোরেশন অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন এরই মধ্যে অপসারণ করেছে।

নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দিনে-রাতে সমানতালে চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সিলেট সার্কিট হাউস সংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকা সাজানো হচ্ছে নতুন করে। নগর ভবনে বানানো হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধন কার্যক্রমসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, নজরদারি এবং প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি স্থান আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে শুধু প্রশাসনিক নয়, জনমানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে এই কয়েকদিন ধরে নগরীতে স্বাগত মিছিল বের করা হয়। বিএনপি ছাড়াও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকেও গত তিনদিন ধরে বের করা হচ্ছে স্বাগত মিছিল।

প্রশাসনের প্রস্তুতি
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরকে ‘গ্রিণ অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদীকেন্দ্রিক একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিসিক। নদীর দুই তীর জুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদী তীর সৌন্দর্য বর্ধন, সুইট গেট স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখানে আসছেন, মূলত খেলাধুলা উদ্বোধন করার জন্য। এটা আমাদের জন্য অনেক পাওয়া, একটা বড় পাওয়া। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে, পাশেই বাসিয়া নদী এবং মরা নদী যেটা আছে, সেই নদীতে আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে খনন করেছিলেন, সেই নদীটা পুনঃখনন হবে। তাছাড়া আমাদের সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনেকগুলো প্রজেক্ট আছে, সেটিও উদ্বোধন করবেন।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। একই সাথে আমাদের প্রবাসীদের জন্য একটি ওভারসিজ সেন্টার, প্রবাসী কল্যাণ ভবনে সেটির উদ্বোধন করবেন। এই প্রোগ্রামগুলো এখানে আছে। আমরা আমাদের সবগুলোতে ভেন্যুতে যে প্রস্তুতি দরকার, মোটামুটি প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বরণ করে নিব।’

প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর নিয়ে আজ বিকেলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভিভিআইপি প্রটোকল টিমের সদস্য ছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিবি, সিটিএসবিসহ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ভিভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ ব্যতীত নির্ধারিত রুট, অবস্থানস্থল ও ভেন্যুর ৫০০ মিটার পরিধি ও দুই কিলোমিটার উচ্চতায় ড্রোন বা উড্ডয়নযান ওড়ানো নিষিদ্ধ করেছে এসএমপি।





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com