প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১১ পিএম (ভিজিটর : ৫৩)
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় দুই বৌদ্ধ ভিক্ষু ও এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। মহাসড়কের লোহাগাড়া ও চকরিয়া অংশে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বৌদ্ধ ভিক্ষু ও জন চালক নিহত হন।
ভিক্ষু উসারা গৃহি (খ্যাচিং মারমা) উপাধ্যক্ষ, য়ংড বৌদ্ধ বিহার, খাগড়াছড়ি সদর।ভিক্ষু আগ্গাধেইম্মা অধ্যক্ষ, ওয়াসু বৌদ্ধ বিহার, মাটিরাঙ্গা।লাব্রে মারমা, মাইক্রোবাস চালক।
জানা গেছে, নিহত ও আহত ভিক্ষুরা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে খাগড়াছড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত ৫ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
চকরিয়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও দুই মৃত্যু,এদিকে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ও মালুমঘাট এলাকায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৭টার দিকে হারবাং স্টেশনের কাছে চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী 'পূরবী' বাসের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী মিজানুর রহমান (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি সাতকানিয়ার বাসিন্দা এবং একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, ঘাতক বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে।
সকাল ৯টার দিকে মালুমঘাট স্টেশনের দক্ষিণ পাশে বাস ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে মোহাম্মদ ইউসুফ (৫৫) নামে এক বাসযাত্রী নিহত হন। তার বাড়ি চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও এলাকায়। এ ঘটনায় বাসের আরও ৫ যাত্রী আহত হয়েছেন।
একই দিনে চুনতির বনপুকুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান উল্টে গেলেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে একের পর এক দুর্ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এই মহাসড়ককে এখন 'মৃত্যুফাঁদ' হিসেবে অভিহিত করছেন। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বেপরোয়া গতি ও অসতর্কতার কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে।