ই-পেপার বাংলা কনভার্টার বুধবার ● ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ই-পেপার বুধবার ● ২৯ এপ্রিল ২০২৬
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:



গালিগালাজের পাল্টাপাল্টি প্রবণতায় দেশের কোন নেতাই সম্মানিত নেই
আফজাল হোসেন
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম  (ভিজিটর : ৪০)
দেশের রাজনীতি নিয়ে অনেকের অনেক অনুযোগ, অভিযোগ এবং বিরক্তিও অশেষ। সতেরো কোটি জনগনের বড় একটা অংশ সারা জীবন খেটে মরে। রক্তঘাম একাকার করে বেঁচে থাকে কিন্তু কথায় কথায় হতাশা প্রকাশ করে না। আর এক বিশেষ পক্ষ রয়েছে, যারা লেপ তোষকে ছারপোকার মতো। এদের সবারই চব্বিশ ঘন্টার কাজই হচ্ছে সমালোচনা। মানুষের মন্দ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে ভালো লাগে তাদের। এটা কেনো হয়নি, ওটা কেনো হলো না, ওখানে চুরি হচ্ছে, সেখানে চলছে দিনে দুপুরে ডাকাতি এইরকম অশান্তির কথা বলা, ছড়ানো খুবই পছন্দ তাদের। শুধুই ব্যর্থতার চর্চা আর হতাশা উৎপাদন করেই তাদের মনে জোটে সুখ শান্তি, আনন্দ। 

ক্ষমতায় যারা যায়, তারা মনে করে আমরাই ক্ষমতাবান। ক্ষমতা দেখাতেও হয়। না দেখালে বিরোধীরা ভাবে দূর্বল সরকার। তেমনটা ভেবে কথায় কথায় সরকারের উপর চড়াও হয়। সরকারকেও বোঝাতে হয়, আমরা দূর্বল নই। দুই পক্ষের রেষারেষিতে জনগণের শান্তি গোল্লায় যায়। দেশ বেচারা নির্বাক, অযথা তর্ক, হাতাহাতি, মারামারি, ঘৃণা, বিদ্রুপ আর দিনের পর দিন নানা প্রকার অসভ্যতার উদাহরণ দেখতে দেখতে ক্লান্ত, বিপর্যস্ত হওয়া ছাড়া তার উপায় থাকে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর সবারই বিবেচনা, তারাই এই দেশ ও জনগণের প্রকৃত বন্ধু। নিজেদের বিশ্বাস, তারাই দেশের কিসে ভালো হবে, তা সবচেয়ে ভালো জানে এবং বোঝে। বাকিরা অত্যাচারি, অনাচারি ও চক্রান্তকারি। নিজেকে বাদ দিয়ে তারা সবাইকে ভাবে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়া দল। 

দলগুলো “জনগণ” শব্দটা দরকারি মনে করে কিন্তু মনে করে না, “জনগণ” সত্যিই দরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভরসা, কোমরের জোর হচ্ছে জনগণের মধ্যে থাকা “চোখ থাকিতে অন্ধ” নিজ নিজ দলীয় সমর্থকেরা। 

সমর্থকেরা যার যার দলকে মনে করে খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। যত ভেজাল, ভুল বা দোষে ভর্তি অন্যান্য দলগুলো। অন্য দলের নেতাদের বিষয়েও ওই একইরকম দৃষ্টিভঙ্গী। কেউই যুক্তি খরচা করে কিংবা চোখে দেখেও মনে করে না, নিজের পছন্দের দল ছাড়াও দেশে অন্যদের পছন্দ করা দল, দলেরও অস্তিত্ব রয়েছে। জানা কথাটাই অনেকের অজানা, সম্মান পেতে হলে, সম্মান দিতেও জানতে হয়।  

কেউই ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখে না, যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা না করে অন্য পক্ষকে অনর্থক ছোট করার জন্য অহরহই যা খুশি তাই বলে লাভ কতটুকু হয়! তাতে নিজের প্রিয় দলটার সম্মানও ক্ষুন্ন, ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পরচর্চা, পরনিন্দায় কতটুকু এগিয়েছে রাজনীতি, আমাদের জীবন? এগোতে পারেনি।
টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মোরগ লড়াইয়ের আয়োজন করে রাখে। সেখানে দুই পক্ষের দুজন মানুষ হাজির হয়ে কে অনেক খারাপ, যুক্তি, উদাহরণ দিয়ে বাহাস করে। সে বাহাস সীমা ছাড়িয়ে কখনো কখনো এমন নিম্নস্তরে চলে যায়, জ্ঞান বুদ্ধি থাকা মানুষদের মনে হয়, রাজনীতি বিষয়টাই মন্দ, কলুষে ভর্তি।

কোনো দলের দিকে ঝুঁকে থাকা মনের মালিকেরা “চোখ থাকিতে অন্ধ” তাদের সংকীর্ণ মনে সর্বদা আশংকা, আমার প্রশংসায় অন্য দল, নেতা বড় হয়ে যাবে। তা হতে দেয়া মোটেও ঠিক নয়। কাউকে বড় বানানো মানে নিজে ছোট হয়ে যাওয়া, এই আশংকায় আমরা যত খুশি মন্দ হই। মন্দ হই,  নিরন্তর মন্দ হতেই থাকি। 
কোনো দল সম্পর্কে বা সে দলের নেতাকে নিয়ে বাজে কথা বলে বলে তামাশা করে অনেক সমর্থক ভাবে, নিজের প্রিয় দলকে উঁচু করে দিলাম। ভাবে, দলের প্রতি আনুগত্য জাহির করা হলো, অতি চমৎকার দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেয়া হলো। কেউই ভেবে দেখে না, একজন সম্পর্কে মন্দ কথা বলা হলে, তা ঢিলের বদলে পাটকেল হয়ে ফিরে আসবে। ভেবে দেখেই না, ভালো কথা বললে, ভাবাবার মতো কথা বলা হলে মানুষ বিরক্তের বদলে অনুরক্ত হয়, হতে পারে। 

গালিগালাজ, অপমান করার পাল্টাপাল্টি প্রবল প্রবণতায় দেশের কোন নেতাই সম্মানিত নেই। ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলে, এটা খুবই দুঃখের কথা। অপমানজনকও। সবাই রাজনীতি না করুক, দেশের  গায়ক, অভিনেতা, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক, অধ্যাপক ইত্যাদি আরো অসংখ্য পরিচয়ের মানুষদের পছন্দ করে। প্রিয়, পছন্দের তালিকায় রাজনীতিবিদেরাও থাকবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

আমরা ডুবে রয়েছি অস্বাভাবিকতার মধ্যে। এ কথা কি মানা যায়, একটা দেশে বাস করি, সে দেশের কোনো রাজনৈতিক নেতার দু ছটাক করে গুণ নেই, প্রত্যেকের মনে, চরিত্রের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে দোষ। এটা কি কারো জন্য গৌরবের কথা হতে পারে? মন ভরে সবাইকে নিয়ে মন্দ কথা বলা পছন্দ, এতে প্রমাণ হয় ভালো নই বলে কারো সম্পর্কে ভালো বলার সামর্থ নেই আমাদের।

দোষে গুণে মিলিয়েই মানুষ কিন্তু শুধু দোষ বড় করে দেখার ভয়ঙ্কর অভ্যাসে অন্ধকার কুন্ডলি পাকিয়ে ঘুরছে আমাদের জীবনের উপর এবং তা উৎপাদন করে চলেছে হতাশা। হতাশা একটা জাতিকে উচিৎ পথে হাঁটতে দেয় না, হাঁটায়, আহ্বান করে সর্বনাশের পথে। 

সংকীর্ণ মনের মানুষ দিয়ে দেশ, দল ও নেতার ইজ্জত বৃদ্ধি ঘটবে না। জমিতে কলা গাছ রুয়ে সে গাছে গোপালভোগ আম ফলবে, এমন আশায় অর্ধশত বছরের বেশি সময় কেটে গেছে আমাদের। এখনও কুকুরের লেজের মতো আমাদের কারো স্বভাবই বদলায় না। সকলেই অতি উৎসাহে মুখের ধার বাড়িয়ে চলেছি। কারো মুখেই অমৃত নেই, আছে শুধু নিজের জন্য মধু, পরের জন্য বিষ।

স্বাধীনতার পর থেকে যতগুলো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে, প্রত্যেকের কিছু না কিছু ভালো কাজ, শক্তি এবং দূর্বলতা নিশ্চয়ই ছিল। এ যাবৎ কেউ কোনদিন বলেছে, স্বীকার করেছে কার আমলে কোন কাজ, উদ্যোগ প্রশংসনীয় ছিল? কেউ বলেনি, স্বীকার করেনি। এ মন্দ স্বভাবের জন্য ক্ষতি সকল রাজনৈতিক দল, দেশ ও মানুষেরই হয়েছে।

“যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা” ঠিক এমনটাই আমাদের স্বভাবের ধরণ। কার আমলে কি মন্দ ছিল বড় গলায়  তা বলে বলে মনে সুখ মিলেছে কিন্তু সে সুখ যে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো, তা অনুভব করতে পারে না কেউ। মানুষ আশায় বুক বাঁধে, সে আশা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় দলাদলি, রেষারেষি, হিংসা, মিথ্যাচার, অসম্মান আর অবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবার কান্ড কারখানায়। 

দেশটা মানুষের স্বপ্ন ও শান্তির জায়গা। ধারালো শিং উঁচিয়ে সে দেশটাকে তাড়িয়ে বেড়ানোর মাঠ ভেবে নিয়েছে বিভিন্ন দলের নেতা ও কর্মীরা। আদর্শ নয়, যেনো গুঁতো মারার ধারালো শিং-ই প্রত্যেকের গৌরব ও শক্তি। অথচ প্রত্যেক মানুষের জন্য একটা করে হৃদয় দেয়া হয়েছে। সে হৃদয়ে ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা, সংবেদনশীলতা থাকার কারণেই আমাদের পরিচয় মানুষ। আমরা পরিচয়ে মানুষ কিন্তু কজন কাজে কর্মে, দেশ ও মানুষের  প্রতি দায়িত্ব পালন করে প্রমাণ দিতে পেরেছি, পারি আমরা মানুষই? 

লেখক : নির্মাতা ও অভিনেতা





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com