আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা International Labour Organization (আইএলও)-এর গভর্নিং বডির ৩৫৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রতি অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে তারা আগ্রহী।
জানা যায়, ২০১৯ সালের জুন মাসে আইএলও কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের শ্রমিক প্রতিনিধিরা আইএলও সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার শ্রম খাত সংস্কারের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আইএলওতে জমা দেয়।
গত পাঁচ বছরে আইএলও গভর্নিং বডির বিভিন্ন অধিবেশনে এ রোডম্যাপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।
অধিবেশনে ৫৬ সদস্যের গভর্নিং বডির সদস্য রাষ্ট্র, আঞ্চলিক গ্রুপ এবং মালিকপক্ষ বাংলাদেশের শ্রম খাত সংস্কারে সরকারের আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে। একই সঙ্গে চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিও জানানো হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ সময় জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান ও শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫-কে আইনে রূপান্তরের জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অধিবেশনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিনিধিরা শ্রম আইন সংশোধন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসা করে রোডম্যাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।