যোগ্যতা ও কাজ দিয়েই নেতৃত্ব অর্জন করতে হয়: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাজনীতিতে নেতৃত্ব কারও জন্য স্থায়ীভাবে নির্ধারিত নয়; যোগ্যতা, দক্ষতা, সাংগঠনিক অবদান ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই নেতৃত্বের অবস্থান তৈরি করতে

2026-11-08T17:09:57+00:00
2026-11-08T17:09:57+00:00
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
যোগ্যতা ও কাজ দিয়েই নেতৃত্ব অর্জন করতে হয়: আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম 
রোববার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিএনপির সাবেক হুইপ ও প্রবীণ নেতা প্রয়াত মশিউর রহমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রাজনীতিতে নেতৃত্ব কারও জন্য স্থায়ীভাবে নির্ধারিত নয়; যোগ্যতা, দক্ষতা, সাংগঠনিক অবদান ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই নেতৃত্বের অবস্থান তৈরি করতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। নেতৃত্ব নির্বাচনে কে দলের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, সেটিই হওয়া উচিত মূল বিবেচনা।

রোববার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিএনপির সাবেক হুইপ ও প্রবীণ নেতা প্রয়াত মশিউর রহমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, মশিউর রহমানের মতো অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতার অভাব এখনো অনুভূত হয়। ঝিনাইদহে তিনি যে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, তার প্রভাব জেলার সীমানা ছাড়িয়ে খুলনা বিভাগেও বিস্তৃত হয়েছিল। জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

মশিউর রহমানের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি আসনের মধ্যে তিনটি পুনরুদ্ধার করতে না পারার বিষয়টি বেদনাদায়ক। তিনি বেঁচে থাকলে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত।

উন্নয়ন, মৌলবাদ মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে মশিউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত রাজনীতিক। রাজনীতিই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান অনুষঙ্গ।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বিষয়ে মশিউর রহমানের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য হয়েছে, আবার অনেক বিষয়ে একমতও হয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিয়েছেন। ভালো পরামর্শ গ্রহণ এবং ভিন্নমত নিয়ে আলোচনার মানসিকতা রাজনীতিতে থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহের তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার দায় কোনো একক ব্যক্তির ওপর চাপানো ঠিক হবে না। তাঁর মতে, এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্তহীনতা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফল। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আদর্শের ভিত্তি হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলের আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মশিউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে নেতৃত্বের গুণাবলি, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা এবং সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার চেতনাকে ধারণ করতে হবে।

আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতৃত্ব কখনো স্থির থাকে না বা কোনো ব্যক্তির কাছে চিরস্থায়ীভাবে বন্দি থাকে না। যোগ্যতা ও সাংগঠনিক অবদানের মাধ্যমে প্রত্যেকেরই নেতৃত্বে আসার সুযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁদের ভূমিকা নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য অনুসরণীয়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রক্তের সম্পর্কের চেয়েও রাজনৈতিক আদর্শের বন্ধন গভীর হয়। আদর্শ, সহযোদ্ধাদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই শক্তিশালী সংগঠন গড়ে ওঠে। যারা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিতে চান, তাঁদের মশিউর রহমানের মতো গুণাবলি অর্জনের পাশাপাশি দলের ঐক্য, আদর্শ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রস্তুতি নিতে হবে।

ঝিনাইদহের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহ সদর হয়ে মাগুরা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ হবে। সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর ওয়াই-আকৃতির সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিষয়ে সমীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে।

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম। বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সহসম্পাদক মনির খানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: