বান্দরবানের পর্যটনসমৃদ্ধ চিম্বুক পাহাড়ের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় ২৭ কিলোমিটার সড়কজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার চিম্বুক রেঞ্জে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরীর নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ম্রো সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এবং দেশব্যাপী নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সকালে বান্দরবান-থানচি সড়কের ১২ মাইল এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। পরে তাঁর নেতৃত্বে চিম্বুক রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিযানে সড়কের দুই পাশের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করার কাজ করা হয়। একই সঙ্গে সড়কের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কের বিভিন্ন অংশে দলবদ্ধভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন ম্রো সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচিতে পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু রাস্তা পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে নিজ নিজ এলাকা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার সচেতনতা তৈরি করা। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটকদের কাছে বান্দরবান অন্যতম আকর্ষণীয় জেলা। এ জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, চিম্বুক পাহাড়ের এ সড়ক বান্দরবানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনপথ। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটন পরিবেশও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
কর্মসূচিতে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, ম্রো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।