নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ২০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, দোকান ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আবদুল্লাহ আল সোহান (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে তাঁকে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ পৌর শহরের খাদ্যগুদামের বিপরীত পাশে ‘পিংকি সাইকেল স্টোর’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন সবুজ মিয়া (৬০)। অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল সোহানসহ কয়েকজন বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করতেন। কয়েক দিন আগে সোহান ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেন।
অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোহানসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিনজন পিংকি সাইকেল স্টোরে যান। তাঁরা সবুজ মিয়ার কাছে আবারও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তাঁর নাকে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা দোকানের মালামাল ভাঙচুর করেন এবং ক্যাশে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আশপাশের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে তাঁরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত সবুজ মিয়াকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ ঘটনায় সবুজ মিয়ার ছোট ভাই কমল মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। তিনি বলেন, হামলার পর তাঁর ভাই শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল সোহানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোহনগঞ্জ বণিক সমিতির সভাপতি মো. মাসুদ মিয়া বলেন, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি এবং একজন ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আবদুল্লাহ আল সোহানকে আটক করে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।