ঢাকার দোহার উপজেলার পাঁচ বছর বয়সী যমজ শিশু স্বরসতি ও লক্ষ্মী। তাদের মধ্যে স্বরসতি গত তিন বছর ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছে। অন্যদিকে, তার যমজ বোন লক্ষ্মীও একই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। অর্থাভাবে স্বরসতির নিয়মিত চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিস করাতে পারছেন না অসহায় বাবা-মা। এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রহিম শিলা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে দোহার উপজেলার জয়পাড়া শ্মশানঘাট মণ্ডলপাড়া এলাকায় স্বরসতিদের বাড়িতে যান শামীমা রহিম শিলা। এ সময় তিনি শিশুটির পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য সহায়তা করেন।
এ সময় শামীমা রহিম শিলা বলেন, “আমরা সবাই মিলে স্বরসতির চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এলে তার জীবন আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্বরসতির প্রস্রাবের সমস্যাসহ শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। তখন ধারদেনা ও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ জোগাড় করে দুই মেয়ের চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু পরে অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে স্বরসতির শারীরিক জটিলতা আরও বেড়েছে।
পরিবারের দাবি, বর্তমানে প্রস্রাবের সমস্যার কারণে শিশুটির পেটে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং কিডনিও আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে কিডনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন বলে জানান স্বজনেরা।
স্বরসতির বাবা পেশায় একজন আখের রস বিক্রেতা। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অর্থাভাবে মেয়েদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না তিনি।
এ অবস্থায় স্বরসতির চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান, সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার। স্বজনদের ভাষ্য, একার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা আর সম্ভব হচ্ছে না।