রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের অটোপাসের পর এবারই বোর্ডটিতে পাসের হার সর্বনিম্ন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিভাগের ৩৯টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৯টি কলেজ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন।
বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। সে হিসাবে অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬২ জন।
বোর্ডের অধীনে বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এবার ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
এ বছর রাজশাহী বোর্ডে মোট ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জন ছেলে এবং ২ হাজার ৫৫৫ জন মেয়ে। পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ফল অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় পাসের হারে ধারাবাহিক অবনতির চিত্র দেখা যায়। ২০২০ সালে শতভাগ পাসের পর ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশে। ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করে। ২০২৫ সালে পাসের হার আরও কমে হয় ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এবার তা নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে।
ফলাফল প্রকাশের পর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেভাবে লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। এ কারণে সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
এবারের ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি ৩৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়া এবং মাত্র ৯টি কলেজের শতভাগ পাসের ঘটনা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।