
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে। গত বছর এ হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ পয়েন্ট। ফলাফলে এ অবনতিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ ফলাফলের এ তথ্য জানান।
বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৯১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। সে হিসাবে অকৃতকার্য হয়েছে ৬০ হাজার ৩৮৯ জন।
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৮৩ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৫৭০ জন। জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।
ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এসব বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের পাসের হার অনেক কম।
এদিকে, এ বছর এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৩২ হাজার ৪৫৯ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১৪ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৪২ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর মোট ৬৬৮টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২১৩টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সার্বিকভাবে পাসের হার কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে ফলাফল বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।