বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি ড্রিল ড্রেজারের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ড্রেজারটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুটিখালী গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকতারুজ্জামান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুটিখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. ইলিয়াস খানের নিজ জমিতে প্রায় দুই মাস ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের বাসিন্দা ড্রেজারমালিক বেদার শেখ জমির মালিকের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। উত্তোলিত বালু অবৈধভাবে বিক্রি করে তাঁরা অর্থ উপার্জন করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি রাস্তা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে মাটি ধসে যাওয়া এবং পার্শ্ববর্তী স্থাপনার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনকে জানালে শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকতারুজ্জামান। সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে তিনি ড্রেজারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং বালু উত্তোলনের পাইপগুলো ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযানের সময় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মোরেলগঞ্জ শাখার সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন মল্লিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকতারুজ্জামান বলেন, অভিযানের সময় ড্রেজারমালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এ কারণে জমির মালিক ইলিয়াস খানকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ড্রেজারটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ড্রেজারটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।